বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি নিজের মেধা ও উদ্যোগে প্রত্যন্ত গ্রামে পেঁপে চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন জয়পুরহাটের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হেদায়েত হোসেন শিপলু। ৬ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা তার এই বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে পেঁপে। তার এমন কৃষি উদ্যোগে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি উৎসাহ বাড়াচ্ছে অন্য কৃষকদের মধ্যে। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
হেদায়েত হোসেন শিপলু জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা কুড়িপাড়া গ্রামের অধিবাসী। এই গ্রামেই তিনি গড়ে তুলেছেন সারি সারি পেঁপের সবুজ বাগান। তার প্রতিটি গাছে ঝুলছে কাঁচা পেঁপে ফল, আবার কোথাও ফল পাকতে শুরু করেছে। প্রায় ৮ মাস আগে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ বিঘা জমিতে এই বাগান গড়ে তোলেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হেদায়েত হোসেন শিপলু। বাগান গড়ে তোলার পরে ৬ মাসের মাথায় পেঁপে উত্তোলন শুরু হয়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের প্রায় ১,৮০০টি গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি। গাছগুলো এখন ভরপুর পেঁপেতে। একেকটি পেঁপের ওজন সর্বোচ্চ ৫ কেজি পর্যন্ত আর প্রতিটি গাছে ফলন মিলছে ৪০ থেকে ৬০ কেজি। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কিছু করার চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেন শিপলু। শুরুর দিকে অনেকে সংশয় প্রকাশ করলেও নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমে আজ তিনি সফল। ইতোমধ্যে বাজারে পেঁপে বিক্রিও শুরু করেছেন তিনি।
বাগানে ১৮০০ গাছ রোপণ করলেও বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৬০০ গাছ রয়েছে। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে গড়ে ৪০ কেজি পাকা পেঁপে ফলন নামলে ও ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে প্রায় ২৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন শিপলু।
শিপলুর এই সাফল্য দেখে দূরদূরান্ত থেকেও কৃষি পরামর্শ নিতে আসছেন তার কাছ থেকে। কোকতারা এলাকার জাকির ইসলাম তেমনই একজন। তিনি জানালেন, তার পরিত্যক্ত জমি আছে। এ জন্য পেঁপের বাগান বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য এসেছেন।
নিজেদের জমিতে অন্য ফসল ভালো না হওয়ায় পেঁপে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাগজানার কৃষক মোকলেছুর রহমান। তিনি জানান, জমিতে গবাদি পশুর জন্য ঘাস, ভুট্টা ধান, কলাসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করলেও সেগুলোর ফলন ভালো পাওয়া যায় না। তাই জমিতে পেঁপের চাষ করবেন।
শিপলুর পেঁপে বাগানে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কুটাহারা এলাকার জহুরুল ইসলাম তাদের একজন। তিনি বলেন, এই পেঁপে বাগান হওয়ার কারণে আমরা ১৫ জনের মতো কৃষক কাজ করি। এখানকার আয় দিয়ে আমরা সংসার চালাই, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাই।
বাগান মালিক হেদায়েত হোসেন শিপলু বলেন, ৬ বিঘা জমিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ১৮,০০টি চারা দিয়ে পেঁপে বাগানটি শুরু করেছিলাম। জুন মাস থেকে পেঁপে বাজারে বিক্রি করছি। এখানে শাহী, হাইব্রিড ও নাসি কিংসহ কয়েকটি জাত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি একটি জাত আছে। পাকা পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। বেশিরভাগ পেঁপে পাকা বিক্রি করার পরিকল্পনা আছে। প্রতিটি গাছে ৪০ থেকে ৬০ কেজি করে ফল ধরেছে। ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই মৌসুমেই উৎপাদন খরচ উঠে যাবে বলে আশা করছি। পরের মৌসুম থেকে লাভ হবে।