হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো কিংবা এমএস নাও-এর মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর এক্সেস বাতিল হতেই এবার মার্কিন ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় শুরু হলো। মূলধারার নেটওয়ার্কগুলোর ওপর কড়াকড়ি এবং বিরোধের জের ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সব কার্যক্রম সরাসরি প্রচার করতে হোয়াইট হাউস চালু করেছে নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’। খবর এনডিটিভির।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর স্থানীয় সময় সোমবার ট্রাম্প টিভির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, ‘এখন এটি সরাসরি সম্প্রচারে রয়েছে। ট্রাম্প টিভি স্ট্রিমিং হচ্ছে ২৪/৭। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি, ঐতিহাসিক ভাষণ এবং প্রশাসনের যাবতীয় আপডেট এখন আর টিভির স্ক্রিনে বাদ পড়বে না—সব মিলবে এক জায়গায়।’
উদ্বোধনী সম্প্রচারে ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানসহ অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সফর ও ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রশাসনের সাথে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে। সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও—এই তিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। এর জবাবে এই তিন গণমাধ্যম যৌথভাবে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাথে বৈঠকের পর গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন তিনি। গণমাধ্যম বয়কট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাস্যরসে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা বলেছিল আমাকে বর্জন বা বয়কট করবে, কিন্তু ওরা কখনোই তা করতে পারে না। আমি এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই—চারপাশের এই বিশাল সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির দিকেই একবার তাকিয়ে দেখুন!’
সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় গণমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার। যদি তারা ভুয়া খবর পরিবেশন করে, তবে হোয়াইট হাউসের মতো বিশেষ এক পবিত্র জায়গায় তাদের ঢুকতে না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আমারও রয়েছে।’
হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষও এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করে যুক্তি দিয়েছে যে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের অধিকার দেয়, কিন্তু হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম বা প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে ঢোকার কোনো স্থায়ী গ্যারান্টি দেয় না। অন্যদিকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো আদালতে দাবি করেছে যে, রিপোর্টিং বা সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনো সরকার ঠিক করে দিতে পারে না কোন সাংবাদিক হোয়াইট হাউসে ঢুকবেন আর কে ঢুকবেন না।
বর্তমানে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে সাধারণ বিতর্কে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই ব্যস্ত সূচির মাঝেই 'ট্রাম্প টিভি' চালু হওয়া মার্কিন রাজনীতি ও গণমাধ্যম জগতে এক বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।