স্ত্রীকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী কনক রায় (২৪) ও শাশুড়ি সরিষা রানীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ। নিহতের নাম ফাল্গুনী রায় (২১)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর বাবুপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির উঠানে স্বামী কনক রায়ের ধারালো দেশীয় অস্ত্র (বাসিলা) দিয়ে আঘাতের শিকার হন ফাল্গুনী। এ সময় তিনি চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিদেশি মিশনারি ল্যাম্ব হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ঘটনার পর গ্রামবাসী কনক রায়কে আটক করে নারায়ণপুর কালীরথান মন্দিরের বটগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পার্বতীপুর মডেল থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। কনক রায় ওই গ্রামের জগদীস রায়ের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার টেক্সেরহাট কিসমত পাথারীপাড়া গ্রামের নবকান্তি রায়ের মেয়ে ফাল্গুনী রানীর সঙ্গে কনক রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহের জেরে ফাল্গুনী স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই দম্পতির কণিকা রানী নামে পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনসাপূজা উপলক্ষে কনক রায় তার স্ত্রী ফাল্গুনীকে নিয়ে পূর্ব নারায়ণপুর বাবুপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসেন। মঙ্গলবার সকালে কনকের মা সরিষা রানী ডাক্তারের কাছে গেলে ওই সময় কনক রায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কনক রায় হাতে থাকা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ফাল্গুনীর কপাল ও মুখে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আঃ ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা নবকান্তি রায় বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত স্বামী কনক রায় ও শাশুড়ি সরিষা রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।