জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের টাকা লোপাট করা পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীকে টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে পর্যাক্রমে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এ উদ্যোগে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এবং সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সদস্যদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান ডিএসইর চেয়ারম্যান।
বিনিয়োগকারদের অর্থ লোপাট সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজ হলো মশিউর সিকিউরিটিজ; তামহা সিকিউরিটিজ; ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ; শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোং লিমিটেড এবং বাঙ্কো সিকিউরিটিজ। ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে বিনিয়োগের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হবে, যা মোট ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর প্রায় ৯৭ শতাংশ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইট উদ্বোধন চালু করেছে দেশের ডিএসই। নতুন ওয়েবসাইটটি আজ (বুধবার) থেকে কার্যক্রমে থাকবে। উদ্বোধন শেষে এই তথ্য জানান ডিএসইর এমডি নুজহাত আনোয়ার। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরনো ওয়েবসাইটিও সক্রিয় থাকবে। এ সময় ডিএসইর পরিচালকসহ অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে পাঁচটি ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে হাউজগুলো ও ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ডিফল্টার ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি, ডিএসইতে থাকা তাদের শেয়ার বিক্রি এবং পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইপিএফে জমা হওয়া অর্থ থেকেও বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও সিকিউরিটিজ আনার বিষয়েও ডিএসইর বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় ধরে বাজারে ভালো কোনো আইপিও বা নতুন লিস্টিং হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি ব্লু-চিপ কোম্পানিকে ডিরেক্ট লিস্টিং অথবা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হবে।
এ সময় বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সভরেন বন্ডকে গুরুত্ব; স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও সিসিবিএলকে সমন্বিতভাবে কাজে অগ্রগতি এবং ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ডে অর্থের জোগানের বিষয়সহ বাজার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান। ফরে গণমাধ্যম কর্মীদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তারা।