নারী ক্রিকেটে অশান্তি, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অস্থিরতা মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে বাইরে চলে এসেছে। গতকাল এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ব্রোঞ্জপদক হাতছাড়া করার পর প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরানের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কোচের বক্তব্যকে সরাসরি ‘ডাহা মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তোলার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু।

জাপানের নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ইমরান। টুর্নামেন্ট চলাকালে তাকে বাদ দিয়ে নতুন কোচের আলোচনা এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে নিগার সুলতানা জ্যোতির সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত দলের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই দাবি মানতে নারাজ বাবু, ‘একেবারে ডাহা মিথ্যা কথা বলছেন। সংবাদমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন হয়তো হয়েছে যে, প্রধান কোচের সঙ্গে চুক্তি বাড়াবে না বিসিবি। কিন্তু সেসব তো আমরা কেউই বলেনি। অধিনায়কত্বের ব্যাপারেও জ্যোতি নিজে থেকে সরেছে। সেদিনই আমি বলেছি, আমি বিব্রত এবং হতাশও। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। তাহলে চাপটা কোথায়!’

কোচের বক্তব্য নিয়ে বোর্ডের অবস্থান আরও কঠোর বলে জানান নারী বিভাগের চেয়ারম্যান। প্রধান কোচের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খবর প্রকাশিত হলেও বিসিবির পক্ষ থেকে নতুন কোচ নিয়োগ বা ইমরানের চুক্তি না বাড়ানোর বিষয়ে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে কিছু জানায়নি বলে জানান বাবু। একই সঙ্গে মিথ্যাচারের অভিযোগে প্রধান কোচ ইমরানের বিরুদ্ধে বোর্ড শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি তার, ‘অবশ্যই আমরা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ করব। কারণ তিনি মিথ্যাচার করছেন। এভাবে বলতে পারেন না। সংবাদমাধ্যম তাদের মতো কাজ করবে। আমরা তো কাউকেই কিছু বলিনি। কোচ দেশে ফিরলে শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে এমন ব্যর্থতার ব্যাখ্যাও চাইব আমরা।’

মেয়েদের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে বাংলাদেশ। এরপর জাপানে এশিয়ান গেমস খেলতে গিয়ে সেখান থেকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন জ্যোতি। এই টুর্নামেন্টেও সুবিধা করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্রোঞ্জপদকের আশায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭ উইকেটে ১১৪ রানে থামে জ্যোতিদের ইনিংস। এতে টানা ৩ আসর পর পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে মেয়েদের।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১ রানে হারের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ইমরান, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালে এটা হওয়া (নতুন কোচের খবর, অধিনায়কের বিদায়)...। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, প্রধান কোচ আর অধিনায়ককে আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি আশা (ভালো ফলাফল) করেন?’ একই সঙ্গে দেশের নারী ক্রিকেটের অবকাঠামোর দিকেও আঙুল তোলেন তিনি, ‘নারী ক্রিকেট একটা জায়গায় আটকে আছে। দল নেট প্র্যাকটিস করল, তারপর খেলতে গেল, এটা কিন্তু এ রকম না। এখানে প্রসেস আছে। শ্রীলঙ্কায় শত শত মেয়ে স্কুল ক্রিকেট খেলছে। আমাদের কিন্তু ওই রকম কোনো স্ট্রাকচার নেই। নতুন কোনো প্লেয়ার নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না। এই জিনিসগুলো একটু খেয়াল করতে হবে।’

মেয়েদের ক্রিকেটে এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে বলে স্বীকার করলেও প্রধান কোচ আর অধিনায়ককে ‘সাইজ’ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ মেনে নিচ্ছে না বিসিবির নারী বিভাগ।