জড়িত থাকার কথা স্বীকার গ্রেপ্তার রিফাতের

খুলনার আলোচিত নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো. হাসনাত হাবিব রিফাতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত দুই দিন পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে এসআরবি ও ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজমুল হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন রিফাত। তার তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে তারেক হাসান ওরফে রুবেল এবং অভয়নগর উপজেলার ধূলগ্রাম সিদ্দিপাশা গ্রামের শিবপদ সরকারের ছেলে প্রতাপ সরকার। তাদের গতকাল মঙ্গলবার পৃথক অভিযানে খুলনা ও বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল গেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কেএমপির হরিণটানা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অপরদিকে রিফাতকে গত সোমবার রাত ৩টায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৬ ও ৮-এর যৌথ আভিযানিক দল। রিফাতের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি এলাকায়। রিফাতকে কেএমপির হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করেছে এসআরবি। হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, রিফাতকে গ্রেপ্তারে আজমুল হত্যাকান্ডের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। খুব তাড়াতাড়ি আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হবে।

আজমুল হত্যার প্রতিবাদে গত সোমবার খুলনার সোনাডাঙ্গা প্রধান সড়কে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আজমুল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খাজা হলের বিপরীতে ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা মেসে আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়, পরে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় খুবির চার শিক্ষার্থীসহ আরও ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন ভিকটিমের বাবা। আজমুলের পরিবারের দাবি, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মেসের ম্যানেজার গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী। তবে মামলার এজাহারে তার নাম নেই। পুলিশ জানিয়েছে, আজমুল হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে।