চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরা যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মূল প্রশাসনিক ভবনের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচি চলছিল। এ সময়ের মধ্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম যোগদান করতে ক্যাম্পাসে আসার খবর পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য সায়েমকে অপসারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।
মানববন্ধনে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক বশির জিসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বিদায়ী উপাচার্য। সরকার সবকিছু বিশ্লেষণ করেই তাকে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু এভাবে অপসারণের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষকসমাজ ও চুয়েটকে ছোট করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না হলে আমরা চাই না নতুন কেউ এসে আবার অসম্মানিত হোন।’
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসান উল্লাহ বিদায়ী উপাচার্যের পুনর্বহাল দাবি করে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোনো শিক্ষকের জন্য শিক্ষার্থীদের এমন আবেগ ও আন্দোলন বিরল। কোনো কারণ ছাড়া তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।’ স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চুয়েট প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ছাড়া কখনো বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একজন উপাচার্যকে বহাল করার দাবিতে এভাবে একযোগে আন্দোলনে নামার ঘটনা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল।
দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার ও সিফাত এ নূর-সাবিহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আপত্তি নতুন কাউকে নিয়ে নয়; বরং মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় দৃশ্যমান কারণ ছাড়া অধ্যাপক সায়েমকে সরানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।’
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীরা ফটক বন্ধ করে আন্দোলন করছে। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। তবে নতুন উপাচার্য এখনো ক্যাম্পাসে আসেননি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সোমবার রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে অসন্তোষের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেন কয়েকশ শিক্ষার্থীরা।