এয়ারবাসের সিদ্ধান্ত ইইউর সঙ্গে অংশীদারত্বের পরীক্ষা

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে মনে করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ‘ডিক্যাব-টক’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রদূত সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি (বাংলাদেশের) বর্তমান সরকারের জন্য ভালো পরীক্ষা এবং সরকার ও বিমানের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।’ 

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কোম্পানির ২৫টি এবং ইউরোপ থেকে এয়ারবাস কোম্পানির ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে গত প্রায় চার বছর ধরে আলোচনার মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর জোর দিচ্ছি এবং এটি এমন এক বার্তা, যা আমরা বর্তমান সরকারের কাছেও দিচ্ছি। কেননা, আমরা মনে করি, এটি অত্যাবশ্যক।’

বিষয়টি ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তির চেয়ে বেশি কিছু, এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি এমন নয় যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর শেষ; এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়া।’

ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইইউ অঞ্চলকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত সেরে-শারলে বলেন, বাংলাদেশের আরএমজির ৪৮ শতাংশ যায় ইউরোপে; আর যুক্তরাষ্ট্রে যায় ১৭ শতাংশ। এটি তিন-এক অনুপাত। যুক্তরাজ্যকে যোগ করলে এটি আরও বেশি হবে। সুতরাং, ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার।

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনার সঙ্গে এয়ারবাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আপনি যদি ওই (ইইউ) মানচিত্রে আরও বেশি পরিমাণ থাকতে চান, তাহলে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে হবে। সেই বিবেচনায় এয়ারবাস গুরুত্ব বহন করে। কেননা, এটি ইউরোপকে কেবল একটি বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছে নয়, বরং সহযোগী হিসেবে বেছে নেওয়া।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর সঙ্গে দরকষাকষি প্রসঙ্গে সেরে-শারলে বলেন, ‘ফ্রান্স ও ইউরোপ কখনো বলে না, আমাদের ও তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নাও। আমরা অংশীদারত্বে বিশ^াস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি। সুতরাং, ঢাকা (বাংলাদেশ সরকার) ইউরোপকে কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটি গুরুত্ব বহন করে।’ 

রাষ্ট্রদূত জানান, বিমান কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক কারণে নয়, এয়ারলাইনসে মিশ্রবহরের সুবিধার দিকটি বিবেচনা করে এবং কারিগরি কারণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা ভালোভাবে চলছে।