চাঁদপুরে আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণে অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছেই না। দ্বিতীয় পর্যায়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে ভোগান্তিতে ক্রমাগত যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ছে ঘাট। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সময়ে শুরু হবে নির্মাণকাজ।
চাঁদপুর থেকে রাজধানী ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। একসময় এ রুটে ব্যাপক যাত্রী চাপ থাকলেও সড়কপথের উন্নয়ন এবং লঞ্চঘাটের নানা দুর্ভোগে যাত্রী কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ২০১৬ সালে চাঁদপুরে আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে শহরের মাদ্রাসা রোড এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শুরু হয় নির্মাণকাজ। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ২ একর জায়গায় তিনটি চারতলা ভবন, পন্টুন, গ্যাংওয়ে, পার্কিং ইয়ার্ড, এক্সটার্নাল ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের ১৬ মাসে কাজ হয় মাত্র ২৫ শতাংশ। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে না আসায় বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণকাজ।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের জুলাইয়ে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন করে কাজ পায় মায়ার কবির সিন্ডিকেট-জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৮০ কোটি টাকার এ কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন মেয়াদের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ।
লঞ্চঘাটে প্রতিদিনই নির্ধারিত লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করেন যাত্রীরা। কিন্তু তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ছাউনি কিংবা টয়লেটের ব্যবস্থা। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকে পন্টুনের মেঝেতেই বসে পড়েন।
ঢাকাগামী যাত্রী মাসুদ আলম বলেন, লঞ্চঘাটে যাতায়াতে যাত্রীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে লঞ্চের অপেক্ষায় বসার কোনো জায়গা নেই, নেই টয়লেটের ব্যবস্থাও। দ্রুত টার্মিনালের কাজ শেষ করা প্রয়োজন। তাও হচ্ছে না। বছরের পর বছর ঘুরলেও কাজ শেষ হয় না।
আরেক যাত্রী ছালামত উল্লাহ বলেন, আগে অনেক যাত্রী এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতেন। চাঁদপুর ছাড়াও শরীয়তপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্ভোগের কারণে অনেকেই লঞ্চে না গিয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দরের নির্মাণকাজ শেষ হোক।
লঞ্চমালিক প্রতিনিধিদের দাবি, একসময় এ রুটে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাত্রী চলাচল করতেন। বিভিন্ন উৎসবে সেই সংখ্যা বেড়ে লাখেরও বেশি হতো। বর্তমানে সড়কপথের উন্নয়ন ও লঞ্চঘাটের দুর্ভোগে যাত্রী কমেছে। নৌপথে যাত্রী ফিরিয়ে আনতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন টার্মিনাল নির্মাণ জরুরি। দ্রুত কাজ শুরু না হলে এ রুটের লঞ্চ সার্ভিস টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
চাঁদপুর জেলা বন্দর কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, চাঁদপুর নৌবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করে। বন্দর নির্মাণের কাজ কিছুটা ধীর হওয়ায় যাত্রীদের সব সুবিধা ঠিকমতো দিতে পারছি না। তবে আশা করি দ্রুতই নৌবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে। তখন এ বন্দর আবারও যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।