গুণী শিক্ষক বাছাইয়ে নিয়ম না মানার অভিযোগ

ফেনী সদর উপজেলায় গুণী শিক্ষক বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষক কাজী মেহেরুন নেসা, বিপুল চন্দ্র নাথ ও কাজী নজরুল ইসলাম ভুঁঞা।

লিখিত অভিযোগে তারা জানান, ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে একটি মেসেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে জানতে পারেন, পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় শিক্ষক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। খবর পেয়ে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হন।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়। এরপর তারা উপজেলা অফিস থেকে চলে যান। পরে তারা জানতে পারেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই তিনজন শিক্ষককে মনোনীত করে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে তারা প্রশ্ন তোলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কীভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হলো। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পালেদা পারভীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃষীকেশ শীল বলেন, হঠাৎ করে শিক্ষা অফিস থেকে গুণী শিক্ষকের নাম চাওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তালিকা পাঠিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি যাকে ভালো মনে করেছেন, তাকেই নির্বাচিত করেছেন। প্রার্থী বেশি হওয়ায় যাদের নাম আসেনি, তাদের অভিযোগ আসা স্বাভাবিক। তারপরও বিষয়টি তারা দেখবেন।

ফেনী সদর উপজেলায় নির্বাচিত তিন গুণী শিক্ষক হলেন বিজয় সিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম, দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে জাহান এবং সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সহদেব চন্দ্র নাথ।