এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর নিজেদের অনুশীলনের জন্য একটি স্থায়ী কমপ্লেক্স ও নিজস্ব মাঠের দাবি জানিয়েছেন এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত পদকজয়ী বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি উশুকা জিন্নাত আক্তার। নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ ও উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পেলে ভবিষ্যতে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ বা রৌপ্য জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাই পেয়ে ও প্রতিপক্ষ ওভার ওয়েটের কারণে না খেলেই সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পদক জেতেন জিন্নাত। তবে সেমিফাইনালে চীনের প্রতিপক্ষের কাছে একমাত্র খেলাতে হেরে যান তিনি। পদক জয়ের পর নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উশুকা বলেন, ‘বাংলাদেশের উশুকাদের নিজস্ব কোনো ভেন্যু না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চীনের মতো শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলো সারা বছর ধারাবাহিকভাবে অনুশীলনের সুযোগ পায়।’ তাদের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকার ও ফেডারেশনের প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব ভেন্যু আমরা প্র্যাকটিস করতে পারতেছি না। আমাদের কন্টিনিউ প্র্যাকটিসের দরকার। একটা প্লেয়ার যেরকম চায়না সারাবছর প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে, তাদের সফলতা আমাদের থেকে অনেক বেশি। সারা বিশ্বের তারা এক নম্বর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি তাদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাই, একটা কমপ্লেক্স পাই, একটা মাঠ পাই, একটা ভালো কোচ পাই, আমাদেরও এবার তো ব্রোঞ্জ, ইনশাআল্লাহ সামনে এশিয়ান গেমসে আমরা গোল্ড বা সিলভার নিয়ে যেতে পারবো। যদি আমাদের প্র্যাকটিসটা ওদের মতো কন্টিনিউ চালু রাখে, আমাদের একটা কমপ্লেক্স তৈরি করে দিক—সরকারের কাছে আমার এটাই আবেদন।’
এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার শুরুটাও সহজ ছিল না জিন্নাতের জন্য। জাপানে পৌঁছানোর রাত থেকেই জ্বর ও ঠান্ডায় ভুগছিলেন এই উশুকা। তবে দলের দুই কর্মকর্তা পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন এবং স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে দিয়েছেন। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেদিন জাপানের মাটিতে পা দিই, সেই রাত থেকেই আমার জ্বর, ঠান্ডা। দুই স্যার আমার পাশে ছিল। স্যাররা জাপানের ডাক্তার থেকে ওষুধ নিয়ে এসে দিয়েছে এবং সাহস জুগিয়েছে।’ এরপর জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক গেমসে পদক জয়ের আনন্দে ঘুমাতেও পারেননি এই উশুকা। আগের রাতের উত্তেজনা এবং পদক জয়ের অনুভূতি তাকে পুরো রাত জাগিয়ে রেখেছিল। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটা সারা জীবনের আমার প্রথম ইন্টারন্যাশনাল গেম। তার মধ্যে আল্লাহর রহমতে সবার, বাংলাদেশের সবার দোয়ায় একটা ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছি। এই আনন্দ প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার নাই। সেজন্যই আমি সারারাত ঘুমাইতে পারি নাই।’
প্রথম আন্তর্জাতিক আসরেই পদক জয়ের পর এখন তার লক্ষ্য আরও বড়। প্রয়োজনীয় অনুশীলন সুবিধা, নিজস্ব ভেন্যু ও ভালো কোচের ব্যবস্থা হলে বাংলাদেশের আরচ্যারি ভবিষ্যতে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে আরও ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।