বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা, চবি শিক্ষার্থী কারাগারে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
 
​বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।
 
​থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইকরাম ওয়াহিদ তোহা (২৫) চবির ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি একই শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে জানা গেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ওই নারী হাটহাজারী মডেল থানায় নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাটহাজারী থানা পুলিশ।
 
​মামলার অভিযুক্ত এই শিক্ষার্থী হাটহাজারীর ১১ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকার আনোয়ার ম্যানশনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
 
​মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে গ্রেপ্তার আসামি তোহার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নিজের ভাড়া বাসায় ওই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য ওই নারী শিক্ষার্থী চাপ দিলে তোহা টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগোপনে চলে যান।
 
​জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'এক নারী শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। উক্ত মামলার ভিত্তিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।'