চোটের কারণে এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দলে জায়গা হারিয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গতকাল একটি সংবাদ বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তার আগে দলীয় ফটোসেশনেও অন্যদের সঙ্গে দেখা গেছে আলিসকে।
জাতীয় দলে এর আগেও ডাক পেয়েছিলেন এই রহস্যময় স্পিনার। ২০২৪ সালের বিপিএলে নজর কাড়ার পর ওই বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সুযোগ পান তিনি। তবে সিরিজ শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে যান। প্রায় আড়াই বছর পর আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ এসেছে তার সামনে।
এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে জাপান যাওয়ার আগে মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই বল হাতে ভালো করেছেন আলিস। নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে খেলা প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। গতকাল দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ৩২ রান খরচ করে নিয়েছেন আরও একটি উইকেট।
সাইফউদ্দিন গত ১৯ সেপ্টেম্বর অনুশীলনের সময় বোলিং করতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। পরে এমআরআই পরীক্ষায় গুরুতর চোট ধরা পড়ে তার। তাতেই কপাল খুলেছে আলিসের। প্রস্তুতি ম্যাচে পারফরম্যান্সের পর এবার জাতীয় দলের হয়ে বড় মঞ্চে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এদিকে গতকাল মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে নুরুল হাসান সোহানের ‘বি’ দলকে ১১ রানে হারিয়েছে লিটন দাসের ‘এ’ দল। ব্যাট হাতে আলো ছড়ান ওপেনার সাইফ হাসান। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ‘এ’ দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে। ইনিংসের শুরু থেকেই দলের স্কোরবোর্ড সচল রাখেন সাইফ। ৫২ বলে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি ছক্কা ও দুটি চারের মার। তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন করেন ২৪ রান করে। লিটন শূন্য এবং তাওহিদ হৃদয় ফেরেন ১৩ রানে। শেষ দিকে ইয়াসির আলী ও শেখ মেহেদী হাসানের ১০ সমান রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় ‘এ’ দল। ‘বি’ দলের হয়ে রিপন মণ্ডল নেন দুটি উইকেট।
১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ‘বি’ দল। পরে মোসাদ্দেক হোসেনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ২২ বলে ৪৬ রান করেন এই অলরাউন্ডার। নাঈম শেখ ৪০ এবং নুরুল হাসান ২৯ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রানে থামে ‘বি’ দল। ফলে ১১ রানের জয় পায় ‘এ’ দল।
রান তাড়ায় ‘বি’ দলের বড় ধাক্কা দেন মুস্তাফিজু। ৩ ওভারে ৪৫ রান দিলেও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। হাসান মাহমুদ নেন একটি উইকেট, রিশাদ হোসেনও শিকার করেন একটি।