এশিয়ান গেমসের আগে প্রস্তুতি নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
লিটন দাস : প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। অনেক দিন পর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর এই ক্যাম্পে একসঙ্গে হওয়ার এবং বন্ডিংয়ের সুযোগ পেয়েছি। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা খুবই ভালো অবস্থায় আছি। টুর্নামেন্টের লক্ষ্য তো থাকবেই। আমরা ফাইনাল খেলতে চাই এবং সেখানে ভালো কিছু করতে চাই।
আপনিসহ দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার প্রথমবার এশিয়ান গেমসে খেলবেন। কতটা রোমাঞ্চিত?
লিটন : বাংলাদেশ দল আগেও এশিয়ান গেমসে খেলেছে, তবে এবারই প্রথম আমি খেলার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে তো খেলছি, পাশাপাশি এ রকম একটি বড় আসরে খেলার সুযোগ পাওয়াও বড় ব্যাপার। অন্য জায়গায় ট্রফি জেতা যায়, কিন্তু এখানে সোনার পদকের বিষয় আছে। এটি বড় স্বপ্ন। আমার মনে হয়, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই অনেক রোমাঞ্চিত।
এই টুর্নামেন্টে দেশের প্রত্যাশা আপনাদের ওপরই বেশি। এই চাপ কতটা অনুভব করছেন?
লিটন : প্রত্যাশা সবাই করবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমিও প্রত্যাশা নিয়েই যাব যে ভালো কিছু করব। আমাদের খেলোয়াড়রা এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য অনেক আগ্রহী। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলের খেলা নিয়মিত পাওয়া যায়, কিন্তু এ ধরনের টুর্নামেন্ট সবসময় আসে না। তাই প্রত্যেক খেলোয়াড়ই অনেক উচ্ছ্বসিত। বড় স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা সবাই করবে।
অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরেছে, এটা আপনারা স্বপ্ন দেখছেন?
লিটন : অলিম্পিকে কে না খেলতে চাইবে! তবে আগে যে ইভেন্টে যাচ্ছি, সেখানে ভালো খেলতে হবে। ফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে, কারণ ফাইনাল খেললেই সোনা জেতার সুযোগ থাকবে। আমরা সবসময় ম্যাচ ধরে এগোই। এবারও ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোব। বড় লক্ষ্য অবশ্যই ফাইনাল খেলা।
অন্য খেলাগুলো দেখার আগ্রহ আছে বা কোনো খেলা সরাসরি দেখতে চান?
লিটন : সুযোগ পাব কি না জানি না। তবে ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাগুলো দেখার সুযোগ থাকলে অবশ্যই দেখব। অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার এবং তাদের কাছ থেকে শেখারও সুযোগ থাকবে। বিভিন্ন দেশের মানুষ সেখানে থাকবে। এটা আমাদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা হতে পারে।
এশিয়ান গেমসের কন্ডিশন সম্পর্কে কতটা জানতে পারলেন?
লিটন : টেলিভিশনে দেখেছি, বিশেষ করে মেয়েদের ম্যাচগুলো। যতটুকু দেখে বোঝা সম্ভব, ততটুকু বোঝার চেষ্টা করেছি।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোনো ধারণা পেয়েছেন?
লিটন : প্রতিপক্ষ এখনো জানি না। যেকোনো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ জানা গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়ান গেমস অনেকটা এশিয়ান কাপ বা বিশ্বকাপের মতো অনুভূতি দিচ্ছে। আমরা সব দলের জন্যই প্রস্তুত। বেশিরভাগ দলের বিপক্ষে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তাই সেই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
বাংলাদেশে হার্ড-হিটিং অলরাউন্ডারের ঘাটতি আছে। ভবিষ্যতে এ জায়গায় উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন?
লিটন : সর্বশেষ যে তিনজন অলরাউন্ডার খেলেছে, তারা তিনজনই এখন চোটে আছে। এই মুহূর্তে তাদের বাইরে কাউকে সেভাবে দেখছি না। তবে কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, কোচরা তাদের নিয়ে কাজ করছেন। তাদের একটু সময় লাগবে। আশা করি, এক-দেড় বছরের মধ্যে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যাবে।
আপনি নিজে বাংলাদেশে একজন কার্যকর হার্ড-হিটারের ঘাটতি কি অনুভব করেন?
লিটন : নির্বাচক ও কোচদের ভাবনায় যারা নিচের দিকে ব্যাটিং করে, সবাই আছে। জায়গা খোলা। যে ভালো ক্রিকেট খেলবে, তারই সুযোগ আছে। অনেক দিন পর রবি দলে এসেছে, জিম্বাবুয়েতেও ভালো খেলেছে। নিচের সারিতে পাঁচ-ছয়ে ব্যাট করার মতো তিন-চারজন খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের সুযোগ দেব এবং যাকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হবে, তাকেই খেলানোর চেষ্টা করব।
ক্রিকেটের সাফল্য অন্য খেলাগুলোর উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন?
লিটন : অবশ্যই। দেশের জন্য কিছু করতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। সেটা যদি খেলাধুলার মাধ্যমে হয়, তাহলে আরও ভালো। ক্রিকেটের বিভাগ আলাদা হলেও আমাদের মাধ্যমে অন্য কোনো খেলার উন্নয়নের সুযোগ এলে আমরা চেষ্টা করব। এশিয়ান গেমসে ভালো করে যদি আমরা অলিম্পিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের অন্যান্য খেলাও সেখান থেকে উপকৃত হতে পারে।
এশিয়ান গেমস বা অলিম্পিকের কোন অ্যাথলেটের ভক্ত আপনি?
লিটন : খুব একটা নির্দিষ্ট কারও ভক্ত ছিলাম না। তবে সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসের ইভেন্ট দেখতে ভালো লাগে। এসব ইভেন্টে ফল দ্রুত আসে, তাই দেখতেও ভালো লাগে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চাহিদা বাড়ায় কতটা আশাবাদী?
লিটন : খুব ভালো ব্যাপার। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে যেতে পারলে একটা সময় তারা বিশ্বজুড়ে আরও ভালোভাবে পরিচিত হবে। একজন খেলোয়াড় গেলে তার মাধ্যমে অন্য খেলোয়াড়েরও সুযোগ তৈরি হয়। এখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিয়মিত যাচ্ছে এবং ভালো পারফরম্যান্স করলে আরও নতুন খেলোয়াড়ের যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ।
নিজের ব্যাটিং নিয়ে কতটা আশাবাদী?
লিটন : রান করার চেষ্টা করছি। পরিশ্রমের ওপর তো কিছু নেই। চেষ্টা করে যাচ্ছি, আশা করি সামনে রান আসবে।