আজমুল হত্যার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আসিফ

খুলনার আলোচিত নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আজমুল হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় গত দুদিনে মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ৩ জন এবং একজন জুস বিক্রেতা।

মামলার তদন্তে দিন যত যাচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এসআরবি-৬ সূত্রে জানা গেছে, এসআরবি ৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসিফ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজের ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আজমুল হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

আসিফ জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং ২০ সেপ্টেম্বর তার যোগদানের কথা ছিল; কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আজমুলের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

ঘটনার বিষয়ে আসিফ দাবি করেন, গত শুক্রবার রাতে তিনি তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে ওই ভবনে যান। আজমুলকে মারধরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে আজমুলকে চারতলার ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তাকে দিয়ে চুরি করে ভাত খাওয়া, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়। সে চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয় তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেখানে পা পিছলে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। আসিফের এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ ম্যাচ ম্যানেজার মেহেদী ও কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাসনাত হাবিব রিফাত এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছেন। তবে আজমুলকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক হাসান ওরফে রুবেল আজমুলকে বেশি মারধর করেছেন বলেও আসিফ দাবি করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার এসআরবি হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০), তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) ও প্রতাপ সরকারকে (২৮) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একজনকে সন্ধ্যায় প্রেরণ করা হবে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনই আজমুল হত্যাকাণ্ডের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রত্যেকেই মারধরের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

ওসি আরও জানান, আজমুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।