মন্ত্রী-এমপিদের বেতন-ভাতা বাড়াতে বাধা দেবে জামায়াত

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে বাধা দেবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেখলাম যে, পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ার  সঙ্গে সঙ্গে কোনো কোনো মহল চিন্তা করছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য। সংসদে টাকা রুজি করতে যাইনি, বেতনের বিনিময়ে আমরা সংসদ সদস্যগিরি করতে চাইনি, আমরা গিয়েছি জনগণের প্রয়োজনে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় এ সময় দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি ১৮ কোটি মানুষের এ রকম পরিবর্তন হয় আর্থিক অবস্থার, আমাদের আপত্তি নেই; সেদিন আমরা সবার সঙ্গে অংশীদার হতে পারি; কিন্তু নট বিফোর। যদি সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়, আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব, বাধা দেব। গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে, আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াব এটা প্রশ্নই উঠে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,  সংসদে বিরোধী দল সরকারি দলকে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেও তা গ্রহণ করা হয় না। কিন্তু আমরা অতীতের মতো সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতি এবং চেয়ার ছুড়ে স্পিকার হত্যার মতো জঘন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই না। তাই জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান স্বীকৃত ৩টি স্তম্ভ হলো আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এর বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী চতুর্থ স্তম্ভ হলো মিডিয়া। গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। তাই  আমি গণমাধ্যমকে কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা বলার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেশীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। সমাজে এর সর্বগ্রাসী প্রভাব রয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি, আপনারাও বলেন; সবাই মিলে বলি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে এর ফায়সালা হবে।

লংমার্চের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্রতীকী কয়েকশ গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছি। চাইলে পাঁচ হাজার গাড়ি নিয়েও লংমার্চ করতে পারতাম। লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একটি একক দলের নয়; এগুলো জনগণের দাবি। এটিই প্রথম লংমার্চ নয়, এর আগেও হয়েছে এবং সরকারি দলও আমাদের সঙ্গে লংমার্চ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল প্রপাগান্ডা চালিয়েছে যে, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের আগে বিরোধী দল ককটেল ফুটিয়েছে। বিরোধী দল নিজেদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল লংমার্চ কর্মসূচি বানচাল করার জন্য ককটেল ফোটাবে- এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। বরং লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোতে দিশাহারা হয়ে সরকারি দলই বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ বানচাল করার হীনউদ্দেশ্যেই ককটেল ফুটিয়েছিল। আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছি। কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা ঘোষণা করেছি আমাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলিত ও নিয়মতান্ত্রিক। জনগণে যৌক্তিক দাবি আদায়ে লংমার্চ পালনকালে জনগণের কষ্ট ও ভোগান্তির জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।