নেত্রকোনায় শিক্ষার্থীর সাথে মাদ্রাসাশিক্ষকের আপত্তিকর ঘটনার ভিডিও ভাইরালের পর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনা নেত্রকোনা জেলা শহরের এন আকন্দ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার। এই ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রভাষক অভিযুক্ত মাওলানা এহসানুল হকের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে গত ১১ আগস্ট ও ১৭ আগস্ট দুই দিনের দুটি ভিডিও প্রায় এক মাস পর সামাজিক মাধ্যমে সবার নজরে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি অফিস কক্ষে দিনে-দুপুরে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই প্রভাষক আপত্তিকর ঘটনা ঘটায়। পুরো কক্ষে সিসি টিভির ক্যামেরায় সব কিছু রেকর্ড হলেও দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন ছিল।
অবশেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর ঘটনা সবার সামনে এলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। নানা জনের কাছে প্রশ্ন ওঠেÑ এক মাস পরেই কেন ঘটনা জানাজানি হলো আর কেনই বা তাকে কোনো শাস্তি না দিয়ে পদত্যাগপত্র রেখে বিদায় করে দেওয়া হলো।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তারা জানেন ২৬ আগস্ট। এরপর সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি আরও মাস খানেক পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এডিসি মুন মুন জাহান লিজাকে অবহিত করেন। পরে মুন মুন জাহান লিজা বিষয়টি জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানকে অবগত করেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এতদিন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যেই মীমাংসা হয়নি তখন তারা প্রশাসনের দারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে এডিসি মুন মুন জাহান লিজা জানান, এতদিন হয়ে গেল পরে বিষয়টি তারা গত বৃহস্পতিবার অবগত করেছে। এইটা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।