সাবেক এমপি-মেয়রের বিরুদ্ধে ১৮ মামলার সিদ্ধান্ত

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক ৭ সংসদ সদস্য, তাদের স্ত্রী-সন্তান ও সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ১৮ মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার এসব মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন হয়েছে তারা হলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, রউফের স্ত্রী জান্নাতুন নাহার, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি মো. রেজাউল হক চৌধুরী ও তার ভাই দৌলতপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি হাজি রহিম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনা এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি ফরিদা ইয়াসমিন। মামলার অন্য আসামির মধ্যে রয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুল, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিন, খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুব। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং কারও কারও ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকার এবং তার ছোট ভাই দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তার চারটি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজি রহিম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে দুদক। এর মধ্যে আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার, তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার এবং তাদের ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকা ও তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই মামলার অনুমোদন দিয়েছে।