ওসির বিদায়ে লাউ ফল মুরগি নিয়ে হাজির

বিদায়ের মুহূর্তে প্রিয় ওসিকে কেউ দিলেন বাড়ির গাছের লাউ, কেউ মৌসুমি ফল। কেউ আবার ভালোবাসার উপহার হিসেবে নিয়ে এলেন মুরগি। এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত বিদায়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ছাড়লেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফজাল হোসেন।

গতকাল বুধবার বদলিজনিত কারণে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে হরিরামপুর থানা ছাড়েন ওসি। তাকে বিদায় জানাতে থানায় জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রিয় কর্মকর্তার বিদায়ে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু। তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে থানা প্রাঙ্গণে বিদায়ী ওসিকে বিদায় এবং নবাগত ওসিকে স্বাগত জানাতে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ নানা বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয়রা বিদায়ী ওসি আফজাল হোসেনকে ফুলের মালা ও ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে নবাগত ওসি জেওএম তৌফিক আজমকেও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বিদায়ী ওসির সঙ্গে ছবি তোলা, কুশল বিনিময় ও স্মৃতিচারণে অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও ছিল স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতার ভিন্নরকম প্রকাশ। বিদায়ী ওসির জন্য কেউ বাড়ির গাছের লাউ, কেউ মৌসুমি ফল, আবার কেউ মুরগি নিয়ে আসেন। এসব উপহার ছিল স্থানীয় মানুষের ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রতীক।

সংবর্ধনা শেষে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। এ সময় থানার সামনে জড়ো হওয়া স্থানীয়রা তাকে ফুল দিয়ে এবং হাত নেড়ে বিদায় জানান। বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।

এমএ রাজ্জাক উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওসমান আলী বলেন, ওসি আফজাল হোসেন সুন্দরভাবে হরিরামপুরকে পরিচালনা করেছেন। তিনি একজন সৎ ও নামাজি মানুষ। প্রতিদিন সকালে হাঁটার ছলে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তদারকি করতেন। কোনো এলাকার কী অবস্থা, তা সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন।

নবাগত ওসি জেওএম তৌফিক আজম বলেন, ‘আমাদের বদলির চাকরি। আজ এখানে, কাল অন্যখানে। আমি আফজাল হোসেনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। আগের ওসির মতো আমিও হরিরামপুরবাসীর কাছে সহযোগিতা চাই।’

স্থানীয়দের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। তিনি দায়িত্ব পালনকালে হরিরামপুরবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা, ভালোবাসা ও সম্মানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘চাকরি ও বদলি একই সূত্রে গাঁথা। বিদায়বেলায় হরিরামপুরবাসী আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিলেন, তা সত্যিই অকল্পনীয়। এরকম বিদায় আমি আমার চাকরিজীবনে দেখিনি। আমি সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। সবার কাছে দোয়া চাই। হরিরামপুরের মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক ও স্মৃতি আমার সারা জীবন মনে থাকবে।’