রাজউকের নকশা অনুমোদনে চালু হচ্ছে ওয়ানস্টপ সার্ভিস

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকেই নকশা অনুমোদনের আবেদন করা যাবে এবং দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

গত সোমবার জাতীয় সংসদে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় পরিবদর্শন শেষে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন জানিয়েছেন, রাজউক থেকে যেকোনো প্ল্যান ২৪ দিনের মধ্যে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, এতদিন রাজউকের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হতো। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ সমস্যা দূর করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নকশা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি স্থান থেকেই আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে কমিটি নজরদারি করবে বলে জানান শেখ মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবাসন সংকট ও স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রসঙ্গে শেখ মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ল্যান্ড ডেভেলপার আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। তিনি জানান, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্যাপ বিধিমালা ও নগর গৃহায়ণ বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গৃহায়ণ বিধিমালা না থাকায় ল্যান্ড ডেভেলপাররা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছেন।