মার্কিন বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় সহযোগীদের কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশ যদি মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়, তবে তাদের বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল করতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি ইরানের টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি জানান।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রেজায়ি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সীমিত করবেন, আমাদের ফ্লাইট চলতে দেবেন না, আকাশপথে আমাদের পণ্য আমদানি বন্ধ করবেন, আমেরিকানদের সঙ্গে আঁতাত করবেন, আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখব—এটা হতে পারে না’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শুরুর প্রায় সাত মাসের মাথায় এই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। এর আগে গত সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, বিমান পরিষেবা প্রদানকারী বৈদেশিক সংস্থাগুলোর ওপর 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানের সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধে বাধ্য করা হবে।
নতুন এই মার্কিন পদক্ষেপে ইরানের অর্থনৈতিক খাতকে চরম সংকটে ফেলার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতঃপূর্বে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে বুধবার থেকে বাগদাদ, মাস্কাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানের মতো বেশ কয়েকটি গন্তব্যে ইরানের ফ্লাইট স্থগিত হয়ে যায়। তবে তুরস্ক, চীন ও আফগানিস্তানের (কাদাবুল) সঙ্গে কয়েকটি ছোট ইরানি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচল এখনো সচল রয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে মি. রেজায়ি বলেন, ‘এগুলো আলোচনা নয়, বরং কেবল শর্তগুলো জানিয়ে দেওয়া’।