পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী কিশোর কুমার হালদার (৫৪) উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া গ্রামের নিরোদ বিহারী হালদারের ছেলে। তিনি শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কিশোর কুমার হালদারের ফোনে কল আসে। এ সময় তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, তাঁকে ফোন করে বলা হয়, ‘আমরা পুড়িয়ে মারার জন্য নাজিরপুর থেকে তোমাকে ও তোমার পরিবারকে সিলেক্ট করেছি।’ এ থেকে রক্ষা পেতে শুক্রবারের মধ্যে ২০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে সপরিবারে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।
হুমকির পর নিরাপত্তার জন্য চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র কন্যা সুপ্তি হালদার মিকিকে (৯) নিয়ে রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই শিক্ষক।
তিনি আরও জানান, গত বছর তাঁর চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি বা ইন্টারনেটের একটি নম্বর থেকে ফোন করে প্রধান শিক্ষককে ভয় দেখানো হয়েছে।’ তিনি জানান, ওই শিক্ষক থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।