মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো- এই তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। খবর বিবিসির।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতের বিচারক টিমোথি কেলি ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এতে হোয়াইট হাউসকে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করতে বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করে এবং তাদের প্রেস পাস জব্দ করে। পাশাপাশি 'ট্রাম্প টিভি' নামে নতুন একটি ২৪ ঘণ্টার মিডিয়া চালু করার ঘোষণাও দেয় হোয়াইট হাউস।
এরপর সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে।
আদালতের আদেশে বিচারক কেলি বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা মামলায় সংবাদমাধ্যমগুলোর সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এসব প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
তবে বিচারক ওই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন তথ্য আদালতের নথিতে নেই।
হোয়াইট হাউসের আপত্তির মধ্যে থাকা কয়েকটি প্রতিবেদনের বিষয়ে বিচারক বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব প্রতিবেদন এমন সাংবাদিকরা করেছিলেন, যাদের হোয়াইট হাউসের স্থায়ী প্রেস পাস ছিল না। আর যেসব ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্থায়ী পাস ছিল, সেসব প্রতিবেদনের সঙ্গে পাস থাকার সরাসরি সম্পর্কও প্রশাসন দেখাতে পারেনি।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের যৌথ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যৌথভাবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়।
এ ছাড়া সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা মামলার সমর্থনে ৪৯টি সংবাদমাধ্যম আদালতে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস ও ফক্স নিউজও রয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। তার প্রশাসন নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে।
আদালতের বৃহস্পতিবারের আদেশটি চূড়ান্ত রায় নয়; মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলার সময় ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে।