বর্তমানের ফরাসি আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে বয়সের হিসেবে আরও অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো বয়সটা চার দশক পেরিয়েও দেশের জার্সিতে খেলা যে ফরাসি ফুটবলের সংস্কৃতিতে রীতিমতো অসম্ভব, সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই সুপারস্টার।
রোনালদোর বয়সটা এখন ৪১। সেখানে বর্তমানে মাত্র ২৭ বছর বয়সের এমবাপ্পে স্বাভাবিকভাবেই আরও দীর্ঘ সময় দেশের জার্সিতে খেলবেন। তবে পর্তুগিজ মহাতারকা যেভাবে এই বয়সেও জাতীয় দলের হয়ে সমান তালে লড়ে যাচ্ছেন, সেই রেকর্ড নিজের ক্ষেত্রে ছোঁয়া তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে করেন এমবাপ্পে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম 'বিল্ড'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের আইডল রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি যে দেশের হয়ে খেলি তা বিবেচনা করলে এটা সম্ভব নয়... ফ্রান্স আমাকে কখনোই ৪১ বছর বয়সে খেলতে দেবে না।’
তবে রোনালদোর এই নিবেদনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে ফিট থাকলে দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যায়ে খেলে যাওয়া যায়। তবে আমার ক্ষেত্রে, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না।’
এদিকে সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদে মাইকেল ওলিসের সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে চলা গুঞ্জন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এমবাপ্পে। বায়ার্ন মিউনিখে খেলা নিজ দেশের এই সতীর্থকে নিয়ে ইউরোপিয়ান মিডিয়াতে চলা জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, ‘জল্পনা-কল্পনা জানা ছিল আমার। কিন্তু এসব পরিস্থিতি আমি ভালোভাবেই জানি। আমি নিজেও যখন পিএসজিতে ছিলাম, এরকম অসংখ্য গুজব তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি, একজন ফুটবলারকে দলবদল নিয়ে পরামর্শ দেওয়াটা অসম্মানজনক এবং যে ক্লাবে সে এখন আছে, তার প্রতিও এটি অন্যায় হবে।’
বায়ার্ন মিউনিখকে দারুণ একটি ক্লাব হিসেবে অভিহিত করে এমবাপে আরও বলেন, ‘বায়ার্নে মাইকেল অনেক কিছু অর্জন করতে পারে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, বিশ্বের প্রতিটি ক্লাবই মাইকেল ওলিসেকে দলে পেতে চাইবে, কারণ সে একজন অসাধারণ ফুটবলার।’
সময়ের পরিক্রমায় ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের দীর্ঘায়ু নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চললেও, এমবাপ্পের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি আধুনিক ফুটবলের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতাই তুলে ধরে। একদিকে রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা যখন বয়সের সীমানা ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ছেন, অন্যদিকে এমবাপ্পের মতো বর্তমান প্রজন্মের তারকারা আধুনিক ফুটবলের ধকল এবং ফরাসি ফুটবলের উচ্চচাপের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বেশ সুচিন্তিতভাবেই সাজাচ্ছেন।