গ্রাহকের ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গাছ লাগাবে বিকাশ

পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন উদ্যোগ ‘বিকাশ বন’ চালু করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিকাশের গ্রাহকরা তাঁদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনের ভিত্তিতে ভার্চুয়াল গাছ তৈরি করবেন। প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল গাছের বিপরীতে বাস্তবে একটি করে গাছ রোপণ করবে বিকাশ।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনে মোট ২৫ হাজার গাছ লাগানো হবে। রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার বিষয়টি দেখভাল করবে জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম, বিএসপি, এসইউপি (বার), এডব্লিউসি, পিএসসি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও একটি ফলক উন্মোচন করেন। বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.)সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিকাশ জানিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে দেশের আর্থিক খাতে ‘জিরো কমিউট’ ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। যাতায়াত, কাগজের ব্যবহার, অফিস ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষার মতো বিষয়গুলো কমিয়ে ডিজিটাল রসিদ, কাগজবিহীন ঋণ, কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টসহ ২০০টির বেশি ক্যাশলেস সেবার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখছে বিকাশ। এরই ধারাবাহিকতায় সরাসরি গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে যুক্ত করতে ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাপের মাধ্যমে করা ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকদের সরাসরি পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে ‘বিকাশ বন’ চালু করা হয়েছে। বিকাশ অ্যাপ থেকে করা প্রতিটি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ডিপিএস খোলা, অ্যাড মানি, ঋণ নেওয়া, মোবাইল রিচার্জ ও সেন্ড মানির মতো নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহক পাবেন ‘গ্রিন পয়েন্ট’।

গ্রিন পয়েন্ট জমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাপের ‘বিকাশ বন’-এ থাকা ভার্চুয়াল চারাগুলো ধীরে ধীরে বৃক্ষে পরিণত হবে। নির্ধারিত পয়েন্ট অর্জনের পর ভার্চুয়াল গাছটির বিপরীতে বাস্তবে একটি গাছ রোপণ করবে বিকাশ। পরবর্তীতে অ্যাপ থেকেই সেই গাছের হালনাগাদ তথ্য দেখতে পারবেন গ্রাহক।

এভাবে দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে পরিবেশের জন্য বাস্তব অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করবে ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগটি।