একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি রবিবার   

আট বছরের বেশি সময় আগে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আমলে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক একরাম হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি হবে আগামী রবিবার।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নের্তৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ২  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এদিন ধার্য করেন।

গতকাল এ মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে, ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারিক প্যানেলের একজন বিচারক (মো. মঞ্জুরুল বাছিদ) অসুস্থ থাকায় শুনানির দিন পেছানো হয় বলে দেশ রূপান্তরকে জানান প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম।

গত ২৬ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন এবং ট্রাইব্যুনাল ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। এ মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

একরামুল হক প্রায় একযুগ কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় র‌্যাবের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী একরামুল হক। পরে র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একরামকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার আখ্যায়িত করা হয়।

একরামের মৃত্যুর সময়কার একটি অডিও আলোচনায় আসে যাতে তাকে গুলি করার মুহুর্তের বিষয়টি প্রকাশ পায়। অভিযোগ ওঠে, মাদক ব্যবসায়ী তকমা দিয়ে র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। একরাম হত্যার ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয়। গত ২৬ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সংসদ সদস্য বদির ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’- এ তার পরিকল্পনায় একরাম হত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল।