দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য উভয়ই আল্লাহর পরীক্ষা

মানুষের জীবনে কখনো অভাব আসে, কখনো আসে প্রাচুর্য। কারও জীবনে দারিদ্র্য দীর্ঘস্থায়ী হয়, আবার কেউ সম্পদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে জীবন কাটায়। ইসলামের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। কোনোটিই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। বরং এসব পরিস্থিতিতে মানুষ কতটা ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর আনুগত্য বজায় রাখে, তার মাধ্যমে ইমানের পরিচয় প্রকাশ পায়।

মহান আল্লাহ বলেন-

আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো উভয়টি দিয়ে পরীক্ষা করি। (সুরা আম্বিয়া ৩৫)

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য যেমন পরীক্ষা, তেমনি দুঃখ-কষ্ট ও অভাবও পরীক্ষা। মানুষ অনেক সময় বিপদকে পরীক্ষা মনে করলেও প্রাচুর্যকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও নিজের যোগ্যতার ফল মনে করে। অথচ সম্পদ, সম্মান, সুস্বাস্থ্য ও জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যও পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ বলেন-

মানুষের অবস্থা এমন যে, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করেন, তাকে সম্মানিত করেন এবং নেয়ামত দান করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন।’ আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার রিজিক সংকুচিত করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে অপমানিত করেছেন।’ কখনোই নয়। (সুরা ফজর ১৫-১৭)

এ আয়াতে মানুষের একটি ভুল ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ মনে করে, সম্পদ ও প্রাচুর্য মানেই আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর দারিদ্র্য ও অভাব মানেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি। কিন্তু বাস্তবতা এমন নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্পদ দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা সীমিত রিজিক দেন। উভয় অবস্থার মধ্যেই তার প্রজ্ঞা ও পরীক্ষা রয়েছে।

প্রাচুর্য পেলে মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা, হালাল পথে সম্পদ উপার্জন করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অন্যদিকে দারিদ্র্যের সময় ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

তাই সম্পদ পেয়ে অহংকার করা কিংবা অভাবে পড়ে হতাশ হওয়া উচিত নয়। জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর আনুগত্য বজায় রাখাই প্রকৃত সফলতা।