এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে অংশ নিতে গতকাল দুই ধাপে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। যাওয়ার আগে পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের আরেকবার মনে করিয়ে দেন, সোনা জয় ছাড়া বিকল্প ভাবনা নেই তাদের। জাপানের মন্থর উইকেট সে স্বপ্ন বড় করছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রথম বহরে লিটন দাস, নাজমুল হোসেনদের সঙ্গে দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানান তালহা। এই পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘যখনই আমরা কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজ খেলতে যাই, অবশ্যই সেরাটা দেওয়া লক্ষ্য থাকে। এবারও ব্যতিক্রম কিছু নেই। আমরা চেষ্টা করব যেন সোনা জিততে পারি।’
জাপান ক্রিকেটের সহযোগী সদস্য। সেখানে এর আগে ক্রিকেটের বড় কোনো আসর বসেনি। এ জন্য এশিয়ান গেমসের আগে নতুন করে উইকেট বানাতে হয়েছে তাদের। এই দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশে দীর্ঘদিন উইকেট প্রস্তুত করা শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি সিলভা। তার কাছ থেকে ধারণা নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
নিজেদের প্রত্যাশামতো মন্থর উইকেট পেলে ২০১০ সালের পর এই টুর্নামেন্টে সোনা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে বাংলাদেশের। এ নিয়ে তালহা বলেন, ‘জাপানের উইকেট অচেনা হলেও কিছু ধারণা আমরা নিয়েছি। পিচ কিউরেটরের সঙ্গে কথা হয়েছে। মেয়েদের দল সেখানে ছিল, তাদের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু ধারণা আমরা পেয়েছি। এখন গেলে বুঝতে পারব যে উইকেট কেমন আচরণ করে। মনে হয় ব্যাটারদের জন্য খুব ভালো কিছু থাকবে না। টার্নিং উইকেট হতে পারে। স্পিনাররা সাহায্য পেতে পারে। যদি এমন মন্থর উইকেট থাকে, তাহলে আমাদের দলে এমন স্পিনারও আছে, যারা পরীক্ষিত। তো আশা রাখি, দল হিসেবে আমরা ভালো কিছু করে আসতে পারব।’ সঙ্গে যোগ করেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ, ‘এই ধরনের উইকেট হলে আমাদের সুবিধা থাকবে। আমরা চিনি, আমরা জানি এই ধরনের উইকেটে কীভাবে খেলতে হয়। তবে দায়িত্ব যেমন স্পিনারদের থাকবে, তেমনি ব্যাটারদের, পেসারদেরও দায়িত্ব থাকবে।’
এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। একইভাবে শেষ আটে সরাসরি জায়গা পেয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। লিটনরা খেলবেন চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে। ২৯ সেপ্টেম্বর নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। এই গ্রুপে আছে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া। ফলে গ্রুপ পর্বের ফল না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হচ্ছে না।
প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় মাঠে নামবে পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হবে তাদের প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি জিতলে শেষ চারে মুখোমুখি হবে তারা। পাকিস্তানের এবারের দলটি লিটনদের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নয়। সাহিবজাদা ফারহানের নেতৃত্বাধীন দলে আছেন সাইম আইয়ুব, আবরার আহমেদ, আরাফাত মিনহাস ও হাসান নাওয়াজের মতো ক্রিকেটাররা।
লিটনরা পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বাংলাদেশও সেভাবেই ভাবছে। দেশ ছাড়ার আগে তালহা বলেন, ‘ভারত অবশ্যই ভালো দল। অভিজ্ঞতাও অনেক তাদের। যেহেতু সেখানে কারও জন্যই পরিচিত উইকেট নয়, তো আমাদের সবার জন্যই নতুন কিছু। যে নির্দিষ্ট দিনে ভালো করবে, সেই জিততে পারবে।’