প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে গভীর খাদ, ‘মারিয়ানা ট্রেঞ্চে’র পাশে অদ্ভুত এলাকা ‘মারিয়ানা ফোরআর্ক’। এখানে হাড়কাঁপানো ঠা-া, মাথার ওপর হাজার হাজার টন পানির চাপ। পাশাপাশি চারদিকে আগ্নেয়গিরি থেকে বের হচ্ছে বিষাক্ত কাদা। এখানকার পরিবেশ এতই ক্ষারীয় যে, কোনো প্রাণীর পক্ষে এক মুহূর্ত টেকা দায়। বিজ্ঞানীরা এতদিন ভাবতেন, এই নরকে নির্ঘাত প্রাণ নেই। একেবারে মৃতপুরী। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। জানা যাচ্ছে, গভীর সমুদ্রের তলদেশের চরম প্রতিকূল পরিবেশে (উচ্চ চাপ, প্রচ- ঠা-া এবং অক্সিজেনের অভাব) অণুজীবের বেঁচে আছে। এটি প্রমাণ করে জীবনের অভিযোজন ক্ষমতা কতটা শক্তিশালী। বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশের কাদামাটি পরীক্ষা করে লিপিড বায়োমার্কার বা চর্বিজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি খোঁজার মাধ্যমে অণুজীবের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। চর্বি বা লিপিড অণুজীবগুলোর কোষপ্রাচীর বা মেমব্রেন তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, যা তারা মারা যাওয়ার পরও হাজার বছর ধরে কাদামাটির স্তরে সংরক্ষিত থাকে। সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, অন্ধকার আর খাবারবিহীন জায়গায় এরা বাঁচে কীভাবে? খায় কী? পরীক্ষায় দেখা গেল, এই অণুজীবগুলো ভয়ংকর প্রতিকূল অবস্থায় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। সমুদ্রের তলায় পাথর ও পানির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে শক্তি তৈরি হয়, এরা সরাসরি পাথর থেকে সেই শক্তি শুষে নেয়। তারপর তারা মিথেন গ্যাস তৈরি করে। এই গ্যাসকেই অণুজীবগুলো খাদ্য বা শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করে। সেই খাদ্য শক্তিতে তারা বেঁচে আছে। নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অণুজীবগুলো বাঁচতে পারে হাজার বছর।