সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহে আগুন, ছেলের পর বাবারও মৃত্যু

রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার জেরে দেয়া আগুনে ছেলের পর মারা গেলেন বাবাও। দগ্ধ সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট মারা যান।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা যান সিদ্দিক ব্যাপারী (৬০)। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে রাজিব ১৫ শতাংশ, আরিফ ৮ শতাংশ ও তানিয়া ৬০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছে।

এর আগে, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুর শ্যামবাজার চমকটুলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন, সিদ্দিক বেপারী (৬০) ছেলে মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগিনা আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) ও ভাগ্নি তানিয়া আক্তর (২০)।

দগ্ধ আরিফুর রহমার ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শ্যামবাজার চমকটুলি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। দগ্ধরা সবাই পাশাপাশি থাকেন। ইমন সৌদিআরব প্রবাসী। রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিকের কাজ করে ধলু ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী, ও তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজে অনার্স পড়ে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার আগেরদিন ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমে রাখে। এটি দেখে তানিয়া পানি পরিস্কার করতে বলে। এ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুলতানা সৌদি আরব প্রবাসী ভাই ইমনকে বিষয়টি জানায়। ইমন ঘটনার আগেরদিন দেশে চলে আসে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে বলে, আমিও মরবো, তোদেরকেও মারবো। এই বলে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালে এবং বাকিদের শরীরে পেট্রোল ছিটে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সবাই দগ্ধ হয়। এরপর সবাইকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।