উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর নিজেদের ট্র্যাকে ফেরাতে দলকে নতুন রুপ দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছে ব্রাজিল। তবে নতুনদের নিয়ে সাজানো সেলেসাওদের পুরনো ক্ষতে নতুন প্রলেপটা যেন দিয়েই দিয়েছিল সকারুজরা। ঘরের মাঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও এগিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে যোগ করা সময়ে রায়ান ভিতরের গোলে মান বাঁচল ব্রাজিলের। এতে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলের ড্রয়ে।
কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিলেন রাফিনহারা। মাঝমাঠে বলের দখল কিংবা আক্রমণে সৃষ্টিশীলতা কোনোটিতেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। এতে ম্যাচের প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়াই বেশি গোছানো ফুটবল খেলে আধিপত্য বিস্তার করে এবং বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে।
বিপরীতে সেলেদাওদের আক্রমণভাগ ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। তবে প্রথমার্ধে একদম শেষ মুহূর্তে (৪৫+১ মিনিটে) এনদ্রিকে সঙ্গে দারুণ এক দেওয়া-নেওয়া করে এস্তেভাও বল জালে পাঠালেও ভিএআর প্রযুক্তির কল্যাণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এতে গোলশূন্য স্কোরলাইন নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে কিছুটা বলের দখল বাড়ালেও গোলের দেখা পেতে বেশ বেগ পেতে হয় ব্রাজিলকে। রাফিনহা ও এস্তেভাওদের সামনে একের পর এক সুযোগ আসলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তারা। উল্টো খেয়ে বসেন গোল।
ম্যাচের ডেডলক ভাঙে স্বাগতিকদের দুর্দান্ত এক নৈপুণ্যে। ৬৮ মিনিটের মাথায় তরুণ তারকা ইরাংকুডা চোখ জুড়ানো এক ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ঐতিহাসিক এক জয়ের সুবাস পাইয়ে দেন।
গোল হজমের পর কোচ আনচেলত্তি আক্রমণভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে স্যামুয়েল লিনো, পেদ্রো ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়দের মাঠে নামান। সেখানেঅস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ভাঙতেও মরিয়া হয়ে ওঠে সফরকারীরা। তবে অঘটনের এক হারটাই ফলাফল হিসেবে দেখাচ্ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে সেখানে ত্রাতা হয়ে আসেন রায়ান।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে ৯০+৫ মিনিটে, কর্নার কিক থেকে রাফিনহার বাড়ানো বলে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন রায়ান। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তের এই স্বস্তির গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
আগামী মঙ্গলবার একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।