ফরিদপুরে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত

ফরিদপুরের মধুখালীতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা শাকিল বিশ্বাসের লাঠির আঘাতে জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জায়েদুল বিশ্বাস ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু লালন পালন করতেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
‎
‎পুলিশ জানায়, মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় এবং জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমুদে ও জায়েদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও কয়েকবার ঝগড়া ও শালিস হয়েছে স্থানীয়ভাবে।
‎
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বসত ঘরের সিড়ি নির্মাণ ও বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এর একপর্যায়ে আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জায়েদুলকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জায়েদুল। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‎
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জায়গা-জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। শুক্রবার গরুর ঘরের পানি বের করাসহ নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। পরবর্তীতে ভাতিজা শাকিলের লাঠির আঘাতে জায়েদুল নিহত হন। 

‎প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশ আলিপ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে একপর্যায়ে শাকিল কাঠের বাটাম দিয়ে জায়েদুলকে আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে মধুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মারুফ হাসান রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌচ্ছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান। তিনি জানান এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
‎
‎বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে । বর্তমানে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।