ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়া সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের সামরিক প্রধানরা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে। সৌদি আরবকে সহায়তা করার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্যই এ বৈঠক।
ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে হুতি বিদ্রোহীরা হামলা চালিয়েছে এবং বারবার সৌদি আরবেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের রেশ এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যাহত করছে হুতিরা।
লড়াই চলার মধ্যেই সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় বৈঠক করেছেন বলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদিকে সহায়তা করার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য তিন দেশের চিফ অব স্টাফদের একটি জরুরি বৈঠক করার ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছেন। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা বলে গণ্য করা হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুতিদের সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই বলার পরপরই এ বৈঠকের কথা জানানো হয়।
সৌদির বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স : লোহিত সাগরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই বন্দর জ্বালানি পরিবহনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এ কথা জানান। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি করছিল। কিন্তু সেটিও হুতি হামলার কবলে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে।
ফ্রান্সে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকার চাপের মধ্যে ম্যাক্রোঁ ফরাসি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা এ স্থানকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছি। আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না, কেবল এই জায়গাটিকে সুরক্ষিত রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।’