সিইসির পদত্যাগের আলটিমেটাম দিল ককরোচ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দল। গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমেছে তারা। দিল্লিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ। আসামে আটক করা হয় গৌরব গগৈসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে। বিক্ষোভ পাটনা, পুদুচেরি, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদুন, জম্মু, কলকাতাসহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পাটনায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বিষয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তোলপাড় হচ্ছে দেশটির জাতীয় রাজনীতি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটারদের তথ্যের ব্যবহার এবং নতুন ভোটারদের নিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।

জ্ঞানেশ কুমার আজ শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গতকাল শুক্রবার এই ঘোষণা করেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার সিজেপির পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দীপকে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সিজেপি দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করবে। সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাবেন না। অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, জ্ঞানেশ কুমার শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বই থেকে সিজেপির দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে। পরে দেশের বিভিন্ন শহরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গান্ধী জয়ন্তীতে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ অঙ্গীকার করার আহ্বানও জানান তিনি।

সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালি নিয়ে আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের কাজ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। তার অভিযোগ, আগে জনগণ ঠিক করতেন কাকে ভোট দেবেন এবং কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় কে ভোট দিতে পারবেন এবং কে পারবেন না, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নিচ্ছে। জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল দিল্লিতে কংগ্রেস সমর্থকদের একটি দল ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ এদিন যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যসহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেসকর্মীকে আটক করে।

আসামেও বিক্ষোভ দেখানোর সময় জেলা কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈ-সহ বেশ কয়েক জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পাটনায় প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন বহু কংগ্রেস সমর্থক। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পুদুচেরী, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেহরাদূন, জম্মু, কলকাতাসহ আরও বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব বলেন, ‘অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। ভারতবর্ষে গণতন্ত্রকে শেষ করে দেওয়া হবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হয় না। এর জন্য যারা দায়ী, তারা ঠিক শাস্তি পাবেন।’

জ্ঞানেশের দুই কর্মসূচি স্থগিত : এই আবহে উত্তরপ্রদেশে জ্ঞানেশের দুটি কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল উত্তরপ্রদেশের মেরঠে নবীন ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল জ্ঞানেশের। সোমবার বারাণসীতে ‘জেন জি’-দের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি ছিল তার। আপাতত দুটি কর্মসূচিই স্থগিত রাখা হয়েছে।