মানচিনির ফেরার ম্যাচে ইতালির লজ্জার হার

তিন বছর আগে সৌদি আরবের হাতছানিতে ইতালির ডাগআউট ছেড়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। বহু নাটকীয়তার পর সেই মানচিনির ঘরে ফেরার রাতটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক নিখাদ দুঃস্বপ্নে। সত্তর হাজার ধারণক্ষমতার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন মাত্র সাড়ে সাতচল্লিশ হাজারের মতো দর্শক; ফাঁকা গ্যালারির সেই নিস্তব্ধতাই যেন বলে দিচ্ছিল ইতালিয়ান ফুটবলের বর্তমান চালচিত্র।

নেশনস লিগের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে তরুণ ফরোয়ার্ড মিকা গডটস আর দোদি লুকেবাকির নৈপূণ্যে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে আজ্জুরিরা। এই পরাজয়ে শুধু মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনাটাই বিবর্ণ হয়নি, বরং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পুরোনো কাঠামোগত দুর্বলতা এবং দলের প্রতি দর্শকদের আস্থার সংকটটাও আরও এবার গা চাড়া দিয়ে উঠল। 

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা।  দলে বেশ কিছু চোটের সমস্যা ও ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনির সাসপেনশন থাকায় রক্ষণ সাজাতে হিমশিম খেতে হয় ইতালিকে। খেলার ৭ম মিনিট চার্ল দে কেটেলিয়ারের একটি শট গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা কোনোমতে রুখে দেন। এরপর আক্রমণে ফেরে স্বাগতিকরাও। তবে নিকোলো বারেল্লার বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে ফ্রাঞ্চেস্কো পিয়ো এসপোশিতোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

শেষমেষ আজ্জুরিদের সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচের ২০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে বেলজিয়াম। মাঝমাঠের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন কেভিন ডি ব্রুইনা। তার বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনিকে বোকা বানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন তরুণ ফরোয়ার্ড মিকা গডটস। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দোন্নারুম্মার দুর্দান্ত কিছু সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত সফরকারীরা।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় ইতালি। কামবিয়াগির ক্রসে মোইজে কিনের ভলি এবং পরবর্তীতে এসপোশিতোর প্রচেষ্টা বেলজিয়ান গোলরক্ষক সেন লামেন্সের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়। এরপর ৬৯ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে দুর্দান্ত গতিতে বল টেনে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দোদি লুকেবাকিও। 

ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে গোলের খোঁজ মরিয়া হয়ে ওঠে আজ্জুরিরা। বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড়দের নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ালেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে জর্জিও স্কালভিনির একটি শট ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে প্রতিহত হলে ব্যবধান কমানোর শেষ সুযোগটি হাতছাড়া হয়।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা এবং রোমেলু লুকাকুর মধ্যকার বাকবিতণ্ডার জেরে দুজনেই হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ দর্শকদের দুয়োধ্বনিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইতালির খেলোয়াড়রা।

দলের এমন পারফর্মে নিজের হতাশা লুকাননি তিন বছর পর ইতালির ডাগআউটে ফেরা কোচ মানচিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন হারি, তখন কেউই খুশি থাকে না। যখন আপনি হারবেন, তখন আপনার দিকে দুয়ো আসতেই পারে।’ 

দুর্বল রক্ষণ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরিও। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দিয়েছিলাম এবং দুটি সহজ গোল হজম করেছি। দল গঠনের জন্য এখনও অনেক কাজ বাকি আছে।’ 

এই হারে ২০২১ সালে ইতালিকে ইউরো জেতানোর কারিগর মানচিনির সামনে এখন পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জটা আরও তীব্র হলো। এতে আগামী দিনে তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর পাহাড়সম চাপ নিয়ে এখন কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে আজ্জুরিদের।