হিলিতে সপ্তাহ ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ল

সরবরাহ কমের অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আবারও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। এদিকে আবহাওয়া ভালো হলে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে বলে দাবি বিক্রেতাদের।

হিলি বাজার ঘুরে প্রতিটি দোকানেই পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেছে। তবুও সরবরাহ কমের অজুহাতে দাম ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, ‘পেঁয়াজ অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর একটি, যা প্রতিদিন প্রতিটি পরিবারেই লাগে। সেই পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমাদের মতো মানুষদের সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কিনেছি ৩৫ টাকায়, আজ কিনলাম ৪০ টাকা দরে—কেজিতে ৫ টাকা করে বেশি দিতে হচ্ছে। একে তো সব পণ্যের দাম বেশি, তার ওপর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দামটা কমলে আমাদের সুবিধা হতো।’

আরেক ক্রেতা নাজমুল হক বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। বাধ্য হয়ে কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। আগে যা কিনতাম, এখন তার চেয়ে কিছুটা কম নিচ্ছি। কারণ পণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের আয়-রোজগার তো আর বাড়েনি। বাজারে পেঁয়াজের তো যথেষ্ট সরবরাহ দেখা যাচ্ছে, তবুও কেন দাম বাড়ছে তা প্রশাসনের নজরদারি করা প্রয়োজন।’

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণে কৃষকেরা তাদের কাছে থাকা পেঁয়াজ আগের মতো বাজারে ছাড়ছেন না। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় মোকামেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহে মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম ২০০ টাকা বেড়েছে। তা ছাড়া তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে, যার প্রভাবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা উঁচুতে। মোকাম থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ভালো হলে কৃষকেরা পেঁয়াজ বাজারে ছাড়বেন, সরবরাহ বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দাম কমে আসবে।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ব্যবসায়ীরা কোন পণ্য কত দামে কিনছেন তার রসিদ দেখা হচ্ছে এবং বিক্রয়মূল্য যাচাই করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার প্রমাণ মিললে আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’