ইমরানুর দাঁড়িয়ে সেখানেই, চার বছরে থাই স্প্রিন্টার রুপাকে করলেন সোনা

ট্র্যাকে গতি বাড়ানোর লড়াইয়ে একজন যখন অতীতের রেকর্ড চুরমার করে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বমানের উচ্চতায়, অন্যজন তখন ঠিক আগের জায়গায় স্থির। ২০তম এশিয়ান গেমসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে থাইল্যান্ডের পুরিপোল বুনসন ও বাংলাদেশের ইমরানুর রহমানের পারফরম্যান্স ঠিক এই ভিন্ন পথচলার গল্পই তুলে ধরল।

হাংঝু এশিয়ান গেমসে ১০.০২ সেকেন্ড টাইমিং করে রুপা জিতেছিলেন থাই বিস্ময় স্প্রিন্টার পুরিপোল। চার বছর পর আইচি-নাগোয়ায় এসে তিনি টাইমিং থেকে কমিয়ে ফেলেন ০.১২ সেকেন্ড। ফাইনালে রেকর্ড ৯.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জয়ের পাশাপাশি নিজের নাম লেখান এশিয়ার ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম মানব হিসেবে (দ্রুততম ৯.৮৩ সেকেন্ড, চীনের অ্যাথলেট সু বিংতিয়ানের)। সেমিফাইনালে ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে গেমসের রেকর্ড ভেঙেছিলেন তিনি, ফাইনালে তা আরও ০.০১ সেকেন্ড উন্নত করেন।

একই সময়ে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের অগ্রগতি থমকে গেছে এক জায়গায়। হাংঝু গেমসে সেমিফাইনালে ইমরানুরের টাইমিং ছিল ১০.৪৪ সেকেন্ড, এবার আইচি-নাগোয়ার সেমিফাইনালেও তার টাইমিং সেই ১০.৪৪ সেকেন্ডই! ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেও চার বছরের ব্যবধানে ট্র্যাকে তার সময়ের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণজয়ের পর উছ্বসিত পুরুষপোল বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত এবং রোমাঞ্চ অনুভব করছি। হিটে কেবল ১০ সেকেন্ডের কাছাকাছি দৌড়ানোর প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু টাইমিং যে এত ভালো হবে তা ভাবতেই পারিনি।”

নিজের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার নেপথ্য মন্ত্র নিয়ে ২০ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট যোগ করেন, “আমার একটাই কথা ছিল—ধৈর্য ধরে রাখা এবং দৌড়ে যাওয়া। আমার স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য সোনা জেতা, আমি তা পেরেছি। এই জয় আমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক গেমসে পদক জেতার বড় স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।”