বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী এফবিসিসিআই ও মালাগা চেম্বার

বাংলাদেশ ও স্পেনের বন্দরনগরী মালাগার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একমত হয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং মালাগা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সাথে প্রযুক্তি বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

শুক্রবার  (২৫ সেপ্টেম্বর) স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার মালাগা শহরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে মালাগা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন। আলোচনায় এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক উল্লেখ করেন যে, মালাগা অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই একক নির্ভরতা কমিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ, সিরামিক, পাটজাত পণ্য ও চামড়াজাত সামগ্রী আমদানির জন্য স্প্যানিশ উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মালাগার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সরেজমিনে সম্ভাবনা যাচাই করতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মালাগার উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পালোমা মরিনো ম্যারিন মালাগা থেকে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের স্পেনের প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এর প্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদল মালাগার বিশ্বখ্যাত টেকনোলজি পার্কের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী সুবিধাকে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। আলোচনার ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিগত সহায়তা আদান-প্রদান, আধুনিক কৃষির বিকাশ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ জোরদারে দ্রুততম সময়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উক্ত বাণিজ্য বৈঠকে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান, এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর এবং মালাগা অফিশিয়াল চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি, সার্ভিসেস অ্যান্ড নেভিগেশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এস্থার মার্তিনেজ রেয়েসসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।