শেষ হলো দুই দিনের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী উৎসব

উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত দুই দিনের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী। আজ শনিবার সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরের ৩৫টি স্কুলের ২ হাজার ৭২৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

শুক্রবার চার পর্বে বিজয়ী ৩৬টি স্কুলের ৩ হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এবার দুই দিনে মোট ৭১টি স্কুলের মোট ৫ হাজার ৮২০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হলো। এই উৎসবে সহযোগিতা দিয়েছে গ্রামীণফোন।

লটারির ব্যর্থতা পেরিয়ে অবশেষে ‘সেরা পাঠক’ রাহাত। আগের দুইবার এসে খালি হাতে ফিরতে হলেও এবার আর হতাশ হতে হয়নি। শহীদ বীর বিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের নবম শ্রেণির এই ছাত্র প্রথমবারের মতো জয় করে নিয়েছেন সেরা পাঠকের পুরস্কার। নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগে কয়েকবার এই অনুষ্ঠানে এলেও সেরা পাঠকের পুরস্কার পাইনি। এবার পুরস্কার পেয়ে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ পুরস্কার পাওয়ার আশা করি।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মাহফুজ আনাম, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ফরিদুর রেজা সাগর, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, প্যারাগন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সম্মাননীয় ট্রাস্টি মশিউর রহমান, গ্রামীণফোন লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রাম লিড মোহাম্মদ সোহেল রানা, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এবং কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আফসানা বেগম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা ও অধ্যাপক রঞ্জনা সায়ীদ।

মাহফুজ আনাম শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাহিত্য, কবিতা, ইতিহাস, দর্শন ও বিজ্ঞানের বই পড়তে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহারের পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

মশিউর রহমান বলেন, ‘বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বয়স বাড়লেও মানুষকে বই পড়তে হয়। আমরা যারা ব্যবসা করি, তাদেরও নিয়মিত বিভিন্ন টেকনিক্যাল বই পড়তে হয়।’

খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জ্ঞান অর্জন, চিন্তাশক্তির বিকাশ ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে বই পড়ার বিকল্প নেই।

খায়রুল আলম সবুজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে ভবিষ্যতে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। বই পড়ার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও আলোকিত চিন্তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।