ছুটির দিনের গন্তব্য

নগরজীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে রাজধানীর কাছেই সবুজে ঘেরা গাজীপুরে রয়েছে বন, লেক, জলাশয়, পিকনিক স্পট আর নানা ধরনের রিসোর্ট। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে একদিনের জন্য কিংবা রাতযাপনে ছুটির সময়টা উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে। বিলাসবহুল রিসোর্টের পাশাপাশি রয়েছে তুলনামূলক কম খরচে ডে-আউটের ব্যবস্থাও। ফলে ছুটির দিনে ঢাকার মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে গাজীপুর।

সারাহ রিসোর্ট : গাজীপুরের রাজাবাড়ীতে বন ও জলাশয়ঘেরা বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত সারাহ রিসোর্ট। প্রকৃতির সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ রিসোর্টে রয়েছে সুইমিং পুল, বোটিং, কায়াকিং, কিডস জোন, ইনডোর-আউটডোর গেমস ও মিনি জুস, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জিপ লাইনসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে রাজেন্দ্রপুর, সেখান থেকে রাজাবাড়ীতে যাওয়া যায়। রিসোর্টে যাওয়ার পথে শাল-গাজারি গাছের সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। এই রিসোর্টে আলাদা প্রবেশ ফি’র পরিবর্তে ডে-লং প্যাকেজ চালু রয়েছে।

ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা : ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ঢাকার খুব কাছেই গাজীপুরের নলজানি গ্রামে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল ও আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট। বিশাল আয়তনের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও সবুজ সমারোহের মধ্যে এটি নির্মিত। সুবিশাল আউটডোর সুইমিং পুল, শান্ত ও আরামদায়ক স্পা সেন্টার, জিম এবং দেশি-বিদেশি খাবারের রকমারি রেস্তোরাঁ। ঢাকা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে নামতে হবে ভবানীপুর। এরপর ইউটার্ন নিয়ে নলজানী এলাকায় পৌঁছালে রিসোর্টে পাওয়া যায়।

ছুটি রিসোর্ট

গাজীপুরের শুকুন্দি গ্রামে ৫৪ বিঘা জায়গাজুড়ে ছুটি রিসোর্ট। লেক, সবুজ প্রকৃতি, পুল, কিডস জোন ও বিভিন্ন আউটডোর বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। পূর্ণিমার রাতে আলোকসজ্জা সীমিত রেখে প্রকৃতির পরিবেশ উপভোগের সুযোগও রয়েছে। এই রিসোর্টে আসতে ঢাকা থেকে আসতে হবে গাজীপুর চৌরাস্তা। এরপর গাজীপুর শহর হয়ে শুকুন্দি গ্রামে গেলেই পাওয়া যায় রিসোর্ট। এছাড়াও গাজীপুরের পূবাইলেও রয়েছে ছুটি রিসোর্ট। ডে-লং প্যাকেজ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং স্টুডেন্ট প্যাকেজ ১ হাজার ৪৯৯ টাকা। এছাড়াও রাত্রিযাপনের জন্য রয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজ।

নুহাশ পল্লী

রিসোর্ট না হলেও গাজীপুরের পর্যটন মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে নুহাশ পল্লী। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়ে ওঠা এ বাগানবাড়িতে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির দুর্লভ ঔষধি, মসলা জাতীয়, ফলদ ও বনজ গাছ। সবুজ বাগান, লেক, ভাস্কর্য, নানা স্থাপনা ও তার সমাধি। নুহাশ পল্লীর আরেক আকর্ষণ নীলাবতী দিঘি। এখানে জনপ্রতি প্রবেশমূল্য ২০০ টাকা, তবে শিশুদের এখানে টিকিট লাগে না। তবে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য দিতে হয় না। ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে পিরুজালী এলাকায় যাওয়া যায়। এখানে রাত্রিযাপনের রিসোর্ট সুবিধা নেই।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

মনোরম সবুজে ঘেরা ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান নগরজীবনের কোলাহল থেকে স্বস্তির এক দারুণ ঠিকানা। প্রায় ৫ হাজার ২২ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ উদ্যানে রয়েছে শালবন, নানা প্রজাতির গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর বিচরণ। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে অবসর কাটানোর জন্য এটি গাজীপুরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে পিকনিক স্পট, বসার স্থান, হাঁটার পথ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা নেই।

গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্ট

শ্রীপুরের ভাংনাহাটিতে সবুজে ঘেরা পরিবেশে গড়ে উঠেছে গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্ট। প্রকৃতির সান্নিধ্যে অবকাশ কাটানোর পাশাপাশি এখানে রয়েছে গলফ খেলার সুযোগ, সুইমিং পুল, ইনডোর-আউটডোর গেমস, শিশুদের বিনোদন এবং আধুনিক আবাসন। পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দিনভর ঘোরাঘুরি বা রাতযাপনে মিলবে স্বস্তির পরিবেশ। ঢাকার মহাখালী থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আনসার রোড এলাকায় নেমে ভাংনাহাটিতে পৌঁছানো যায়। ডে-ট্যুর ও রাত্রিযাপন প্যাকেজও রয়েছে। ওয়েবসাইটে অনলাইন রিজার্ভেশন অথবা ফোনে বুকিং করা যায়।

রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট

গাজীপুরের শালবনের সবুজে ঘেরা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক অবকাশযাপন কেন্দ্র। এ রিসোর্টে রয়েছে বনঘেরা কটেজ, মাটির ঘর, ওয়াটারফ্রন্ট কটেজ, সুইমিং পুল, শিশুদের খেলার জায়গা। বনের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের জন্য কয়েকটি ভবনও রয়েছে। ঢাকার কাছেই হওয়ায় ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন নিয়ে সহজেই ঘুরে আসা যায়। দিনভর প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি চাইলে রাতেও থাকা যায়। পিকনিক ও ডে-আউটের জন্য আলাদা আলাদা প্যাকেজ রয়েছে।

রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট প্রকৃতি ও নিরিবিলি অবকাশযাপনের এক মনোরম ঠিকানা। জলাশয়, সবুজ গাছপালা ও খোলামেলা পরিবেশে গড়ে ওঠা এ রিসোর্টে মিলবে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রশান্তির স্বাদ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি রয়েছে বিনোদন ও অবকাশযাপনের নানা আয়োজন। লেকে বোটিং ও মাছ ধরা, সুইমিং পুল, পিকনিক স্পট এবং কটেজ এর প্রধান আকর্ষণ। ঢাকা থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা হয়ে রাঙামাটি গ্রামেই রাঙামাটি রিসোর্টটি অবস্থিত। 

দ্য বেস ক্যাম্প বাংলাদেশ

ছুটির দিনে একটু অন্যরকম রোমাঞ্চের স্বাদ নিতে চাইলে গাজীপুরের সফিপুরের মাধবপুরে যেতে পারেন দ্য বেস ক্যাম্প বাংলাদেশে। প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এ ক্যাম্পে গাছের ওপরের অ্যাডভেঞ্চার, জিপলাইন, ক্লাইম্বিং, র‌্যাপেলিং, মাড ট্রেইল, আর্চারি ও নানা ধরনের আউটডোর চ্যালেঞ্জে মেতে ওঠার সুযোগ রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের যেকোনো স্থান থেকে

 গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুরে নেমে এ ক্যাম্পে যাওয়া যায়।