এস্তুদিয়ান্তেসকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে আর্জেন্টিনার ‘সুপারকোপা ইন্তেরনাসিওনাল’ জয় করেছে রোজারিও সেন্ট্রাল। দলের ঐতিহাসিক এই জয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকা আনহেল ডি মারিয়া।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পুচিতো কাস্ত্রোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল এস্তুদিয়ান্তেস। তবে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ‘ফিদেও’। এরপর প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে বক্সের ভেতর এঞ্জো কোপেত্তিকে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো গনসালেস পিরেস। ভিএআর-এর সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন রেফারি দারিও এররেরা। নিখুঁত শটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রথম অর্ধে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে রোজারিও সেন্ট্রাল। তবে উত্তেজনাকর ম্যাচের শেষ দিকে তৈরি হওয়া কেলেঙ্কারি ও বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছেন ডি মারিয়া।
সান্তিয়াগো দেল এস্তোরোতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এস্তুদিয়ান্তেসের ফুটবলাররা। বিশেষ করে রোজারিও সেন্ট্রালের পক্ষে দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন দি মারিয়া।
বিতর্কিত পেনাল্টি প্রসঙ্গে ডি মারিয়া বলেন, "আমি বিষয়টিকে পরিষ্কার করতে চাই, কারণ সবসময় একই গুঞ্জন শুনতে শুনতে ক্লান্ত লাগে। এটি নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টি ছিল, ঠিক যেমনটি ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আমার সঙ্গে হয়েছিল। বক্সের ভেতর সামান্য স্পর্শ লাগলেই বর্তমান ফুটবলে ভিএআর সেদিকেই যাবে, এখনকার ফুটবলটাই এমন। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে যা ঘটেছে তা সত্যিই দুঃখজনক। সেখানে পরিস্থিতি এমন করার পেছনে আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, ওদের হয়তো নিজেদের কোনো অজুহাত রয়েছে।"
পেনাল্টির আগে ম্যাচের সমতাসূচক গোলটিতে নিজের ফুটবল আইডল ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিওনেল মেসিকে অনুসরণ করেছিলেন বলে জানান ডি মারিয়া।
উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে ফাঁকি দিয়ে শট নেওয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "মাঠে নামার ঠিক আগে আমার চোখের সামনে ২০১৬ কোপা আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মেসির সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক গোলের দৃশ্যটি ভেসে ওঠে। যখন বল হাতে নিলাম, মনে মনে বললাম—‘চেষ্টা করেই দেখি না, আমি তো আর লিও (মেসি) নই, তবে দেখা যাক হয় কি না।’ আর শেষ পর্যন্ত গোলটি হয়ে গেল! আমি মেসির নাম নিচ্ছি কারণ ম্যাচের ঠিক আগেই দৃশ্যটি দেখেছি। ও ফুটবলের সর্বকালের সেরা আইকন এবং সবসময় আমার ভালো চায়।"
রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরে নতুন শিরোপা জেতার আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই বিশ্বজয়ী তারকা। সমর্থকদের উৎসর্গ করে তিনি বলেন, "এই আনন্দের জন্যই আমি ক্লাবে ফিরেছিলাম, এই মানুষগুলোর জন্য। আমি সতীর্থদের বলছিলাম, এখন মাসের শেষ সময়, মানুষ সবকিছু বেচে দিয়ে এখানে খেলা দেখতে এসেছে। তাদের মুখে যদি হাসি ফোটাতে না পারতাম, তবে আমার ভীষণ খারাপ লাগত। আমি জানতাম ফিরে আসার পর ভক্তদের কাছে আমার আর কিছু দেওয়ার বাকি ছিল না, তাও তাদের নতুন একটি আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম। এই শিরোপা আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে এবং আমি অত্যন্ত সুখী।"
ডি মারিয়ার ৩৭ তম ট্রফি
আন্তর্জাতিক শিরোপা
ফিফা বিশ্বকাপ: ১টি (২০২২)
কোপা আমেরিকা: ২টি (২০২১, ২০২৪)
ফিনালিসিমা: ১টি (২০২২)
অলিম্পিক স্বর্ণপদক: ১টি (২০০৮)
অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: ১টি (২০০৭)
ক্লাব শিরোপা
রিয়াল মাদ্রিদ: চ্যাম্পিয়নস লিগ (১টি), লা লিগা (১টি), কোপা দেল রে (২টি), স্প্যানিশ সুপার কাপ (১টি)
প্যারিস সেন্ট জার্মেই : লিগ ওয়ান (৫টি), ফ্রেঞ্চ কাপ (৫টি), ফ্রেঞ্চ লিগ কাপ (৪টি), ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ (৫টি)
বেনফিকা: পর্তুগিজ লিগ (১টি), পর্তুগিজ লিগ কাপ (২টি), পর্তুগিজ সুপার কাপ (১টি)
রোজারিও সেন্ট্রাল: লিগা প্রফেশনাল (১টি), সুপারকোপা ইন্টারন্যাশনাল (১টি)