পটুয়াখালীর আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরতে গিয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ১৫ জেলেসহ এমবি মায়ের দোয়া-৬ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ওই ট্রলারে থাকা ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে আলীপুর বন্দর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার গভীর বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ট্রলারডুবির খবর বন্দরে পৌঁছায়।
ট্রলারটির মাঝি মূসা জানান, সকালে আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তারা সাগরে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটায় ট্রলারটির তলা বা কাঠামো ফেটে যায়। এতে ট্রলারে পানি ঢুকে সেটি ডুবতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে কাছাকাছি থাকা অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে।
ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, গত তিন দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের ট্রলারটি বন্দরে নিরাপদে অবস্থান করছিল। শনিবার আবহাওয়া ভালো হলে সকালে আলীপুর মৎস্যবন্দর থেকে ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। দুপুরের দিকে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটির তলা ফেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ট্রলারটি চলতি বছরই নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র দুটি ট্রিপ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রলারটির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর জেলেদের উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রলারটির এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলারটি উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।