রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে সাপের কামড়ে এক শিক্ষার্থী আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রভোস্টের কক্ষে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রভোস্টের কক্ষে তালা দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘সিট বাণিজ্য আর কত’, ‘প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই’, ‘জঙ্গলমুক্ত হল চাই’, ‘আর কত আশ্বাস’, ‘আর কত শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির সম্মুখীন হবে’, ‘সিট নিয়ে প্রহসন বন্ধ কর’, ‘১ দফা দাবি’, ‘খাবারের মান বৃদ্ধি কর’, ‘ওয়াশরুম পরিষ্কার কর’, ‘কতজন মরলে হল প্রশাসনের টনক নড়বে’–সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত লিফলেট দেখা যায়। তারা এসব দাবিতে স্লোগানও দেন।
হল সংসদের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আমাদের তিনটি যৌক্তিক দাবি ছিল। প্রথমত, আমাদের হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার করা ও সংস্কার করা দরকার। আমাদের হল সাইডে থাকার কারণে এখানে জঙ্গলের পরিমাণ বেশি। হলে একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে নিয়মিত জঙ্গল পরিষ্কার করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের হলটি অনেক পুরোনো, সেক্ষেত্রে হলের অবকাঠামোগত অবস্থাও খুবই খারাপ। এর বিবেচনায় আমাদের দাবি ছিল স্নেকনেট লাগানো। এই তিনটি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা ঘেরাও করেছি।’
হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোয়াইব হোসেন বলেন, ‘আমাদের হলের সমস্যাটা আজকে নতুন নয়। এর আগে দুইবার সাপের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু হল প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা আসলে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শুধুমাত্র আশ্বাসের মধ্যে রেখেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও এর আগে বসেছি এবং তাদের বিষয়টি অবগত করেছি। আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটার পেছনে মূল কারণ কাজগুলো নিয়মিত না করা। হলের চারপাশের জঙ্গল ও হলের নালাগুলো অপরিষ্কার থাকার কারণে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা একটি সুষ্ঠু বিহিত চাই।’
এ ঘটনায় শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।
এর আগে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে পাঠান।