রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগের ধারাবাহিকতা। এসব কর্মকাণ্ড সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি।
এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবির দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল-ইন্টারনেট ব্যবসা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষ এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে একই ধারার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
টিআইবি বলেছে, কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।
প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি সারাদেশে দলীয় আত্মশুদ্ধি ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।