চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন বেওয়ারিশ বৃদ্ধ: মিলছে না স্বজনের খোঁজ

পটিয়া বাইপাস এলাকায় সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে ছিলেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। স্থানীয় কিছু তরুণ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে উদ্ধার করে তাকে ভর্তি করেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর কেটে গেছে ১৭ দিন, কিন্তু মেলেনি তার কোনো স্বজন বা পরিচয়ের খোঁজ।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় তাকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন নাম-পরিচয়হীন এই বৃদ্ধ। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রোগীর অতীত শারীরিক তথ্যের (মেডিকেল হিস্ট্রি) অভাব।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, “গত ০৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে কিছু লোক এই বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা দীর্ঘদিন চিকিৎসা দিয়েও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। শুরু থেকেই অজ্ঞান অবস্থায় ছিল। হাসপাতালে আনার পর থেকেই বৃদ্ধের পরিচয় খোঁজ করেও কিছু পাইনি। অবস্থা বিবেচনা করে পরে সিভিল সার্জন মহোদয়ের পরামর্শে তাকে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই বৃদ্ধকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে তাকে সরাসরি আইসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকেরা। ওই বৃদ্ধ এখনও কথা বলতে পারছেন না, এমনকি কেউ ডাকলেও কোনো সাড়া দিচ্ছেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তার গ্লাসগো কোমা স্কেলে (জিসিএস) জ্ঞানের স্তর ১৫ এর মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭ এ রয়েছে, যা অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থা নির্দেশ করে।

আইসিইউ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সামি এম আদনান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী থাকার কারণে বৃদ্ধের পিঠে গভীর ক্ষতের (বেড সোর) সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু স্বজন না থাকায় তার পূর্বের কোনো রোগের বিবরণ আমাদের জানা নেই। এ ধরনের গুরুতর রোগীর চিকিৎসায় পূর্বের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত জরুরি। হিস্ট্রি ছাড়া পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।"

তবে স্বজনহীন এই বৃদ্ধের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই বেশ তৎপরতা চালাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য সার্জারী, মেডিসিন, রেডিওলোজী ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সম্পন্ন করা হয়েছে এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এমআরআই পরীক্ষায় তার ব্রেইনে রক্তক্ষরণ ধরা পড়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. একরাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, "রোগীটিকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি নেওয়ার পর থেকেই সুস্থ করে তুলতে আমরা সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ীই এখন চিকিৎসা চলছে। তবে পুরানো মেডিকেল হিস্ট্রি না জানা থাকায় চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আনা কঠিন হচ্ছে। স্বজনদের খোঁজ পাওয়া গেলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হতো।"