মিরপুরে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা চায় জামায়াত

মিরপুরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এ দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

ড. রেজাউল করিম বলেন, মিরপুর-১ নম্বরে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পরপরই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, এসব ঘটনা সরেজমিনে দেখতে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন বিদেশে অবস্থান করলেও সেখান থেকে ঘটনার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিন্দা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মিরপুরের চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে বলে দাবি করেন ড. রেজাউল করিম। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ড. রেজাউল করিম বলেন, দোষী যে-ই হোক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই।

জুলাই আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলদারি, বোমাবাজি ও গোলাগুলির রাজনীতি বন্ধ হবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও এখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনায় জড়িতদের দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে দেশের তরুণ ও মেধাবীরা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিজেদের মেধা বিনিয়োগের পরিবর্তে বিদেশমুখী হতে পারেন। তাই মিরপুরের চিকিৎসাকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন ড. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মানসিকভাবে প্রস্তুত না থাকায় তারা আপাতত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন না করার অনুরোধ করেছেন। ফলে তাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে।

ড. রেজাউল করিম বলেন, ক্যান্টনমেন্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়ে। এমন এলাকায় মানুষ যদি নিরাপত্তাহীনতায় থাকে, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের শিকার হয় এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তাহলে জনগণ কোথায় নিরাপত্তা পাবে—এটি বড় প্রশ্ন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিষয়টি তদন্তের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ড. রেজাউল করিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের অধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, বিশিষ্ট গবেষক ও টকশো ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক, মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ডা. মোস্তফা পারভেজ ফয়সালসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।