দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে আসছে নতুন কাঠামো। প্রথমবারের মতো বিসিবির ঘরোয়া টুর্নামেন্টের দল পরিচালনার দায়িত্ব যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে। তিন বছরের জন্য ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে দলগুলোর মালিকানা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন এই উদ্যোগ।
রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে বিসিবি। ২০২৬ থেকে ২০২৮, এই তিন মৌসুমের জন্য দলগুলোর দায়িত্ব পেয়েছে এইস ব্লু প্রোপার্টিজ, একমি, ফরচুন, সেভেন রিংস সিমেন্ট, সিটিজেন ব্যাংক ও ওয়ালটন।
‘ডোমেস্টিক থ্রি’ নামে নতুন কাঠামোর এই টুর্নামেন্টের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২৩ জন খেলোয়াড় নিতে পারবে। তবে এই ২৩ জনকেই খেলতে হবে তিন সংস্করণে। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটের জন্য আলাদা দল গড়ার সুযোগ থাকবে না তাদের।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে নতুন কাঠামোর ঘরোয়া ক্রিকেট। জানুয়ারিতে হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে সংস্করণের ম্যাচ। প্রথমবারের মতো বরিশাল স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ। বিসিবি জানিয়েছে, প্রতি মৌসুমে প্রতিটি দল অন্তত ১৭টি টি-টোয়েন্টি, ৭টি লাল বলের ম্যাচ ও ১৬টি ওয়ানডে খেলবে। সব মিলিয়ে প্রতি দলকে খেলতে হবে অন্তত ৪২টি ম্যাচ।
ড্র করে আইকন খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়েছে। ওয়ালটনের আইকন খেলোয়াড় মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরচুনের আইকন খেলোয়াড় তাওহীদ হৃদয়, একমির আইকন খেলোয়াড় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সেভেন রিংস সিমেন্টের আইকন খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম, ব্লু স্টারের আইকন খেলোয়াড় নুরুল হাসান সোহান এবং সিটিজেন ব্যাংকের আইকন খেলোয়াড় নাঈম শেখ। বিস্ময়কর হলো সাদা বলের অধিনায়ক লিটিন দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে কোনো দলই আইকন হিসেবে নেয়নি।
নতুন কাঠামো নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট তার আকর্ষণ হারিয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ম্যাচ পাতানো (ফিক্সিং) নিয়েও নানা সময়ে নানা ধরনের কথাবার্তা হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই ঘরোয়া ক্রিকেটে আগের রূপ ও আগ্রহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘একটি বিষয় আমি এবং আমার বোর্ড একদম শক্তভাবে বিশ্বাস করি—আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। আমি জানি না সফল হব কি না; তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, আমি বা আমার বোর্ড ব্যর্থতাকে ভয় পায় না।’
নতুন কাঠামোতে তিনটি টুর্নামেন্টকে একটি ছাতার নিচে আনা হচ্ছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি, ‘এই একটি টুর্নামেন্টের অধীনে তিনটি সংস্করণ থাকবে। একটি টি-টোয়েন্টি, একটি ওয়ানডে এবং একটি চার দিনের ক্রিকেট।’
প্লেয়ার্স ড্রাফট নিয়েও রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। তামিম ইকবাল বলেন, ‘২৬ অক্টোবর খেলোয়াড় নিলাম হবে। আমরা একটি নিলামই করব। প্রত্যেক দল ২৩ জন খেলোয়াড় বেছে নেবে।’ ২৩ জনের দল বাছাই করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ একই খেলোয়াড়কে তিন সংস্করণেই খেলতে হবে।
এর আগের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যবস্থাপনা দলের খসড়া নির্বাচন হবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তিনজন করে কোচ নেওয়ার পাশাপাশি একজন বিশ্লেষক, একজন প্রশিক্ষক ও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ করবে। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত ও ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের নেওয়া হবে বলে জনান তামিম।