উপদেষ্টা ফজলুর রহমান

রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপিকে রাখতে চাইলে সততা বজায় রাখুন

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতায় তারেক রহমানকে, বিএনপিকে রাখতে চাইলে নিজেদের সততা বজায় রাখুন। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি, ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ কিন্তু খুব সচেতন।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল। ২০১৪ সালে একা একা নির্বাচন করেছিল। ২০১৮ সালে দিনের ভোট নিশিরাতে করল। ২০২৪ সালে করল আমি-ডামির নির্বাচন। বিএনপিকে সহসা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলতেছে আসতাছে, আসতাছে। কিন্তু সে আসবে না। আপনার গলায় কিন্তু সাপ পেঁচিয়ে রাখছে। আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন বিএনপি।’

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা আমার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আমার মা-বোনের ইজ্জত ধ্বংস করেছিল, যারা মুনীর চৌধুরী, আলিম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, জহির রায়হানের মতো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী যদি আপনাদের খালাতো ভাই লাগে মনে করেন, তাহলে আপনারা ভুল করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা যখন পার্লামেন্টে যায়, তখন তারা নবজাতক শিশু। আর পার্লামেন্ট থেকে বের হয়ে বলে, এক দফা দিলাম, বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। কথাটা বলেছে জামায়াতের আমির। তাই এ বিষয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এটা আমার কথা নয়, সারা পৃথিবী বলে জামায়াতের মতো মুনাফেক দল পৃথিবীতে আর সৃষ্টি হয়নি। আপনারা সাপকে বিশ্বাস করবেন। একটা সাপ ও একটা জামায়াত যদি আসে, তাহলে আগে জামায়াত সম্পর্কে সাবধান হবেন, তারপরে সাপটিকে মারবেন।’

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা পালাইনি, পালিয়েছে শেখ হাসিনা ও তার অনুসারীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ডিসেম্বরে দেশে আসবে বলে গল্প বলে, এটা হয়তো ২০৪০ সালে হতে পারে। কারণ তারা যেভাবে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, তাতে তাদের মনোবল নেই, মানসিক শক্তি নেই। তবে তাদের লজ্জা-শরমও নেই। তারা পালিয়ে গিয়ে এখন বড় বড় কথা বলে ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করে।’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ন কবির, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল প্রমুখ।