ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে তিনজনের একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, আসামি পলায়নের পরে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছি। গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
কারাগার সূত্র জানায়, রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে ‘পিচ্চি রাজা’ প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ পেয়ে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে ‘পিচ্চি রাজা’কে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। পথে নাওজোড় এলাকায় প্রাকৃতিক কাজ সারার কথা বলে তিনি শৌচাগারে যান। সেখান থেকেই পালিয়ে গেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘পিচ্চি রাজা’, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, ‘পিচ্চি রাজা’র বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে।