হোয়াটসআপে পরিচয়ে হানিট্র্যাপের শিকার: গ্রেপ্তার ২ ছিনতাইকারী

‘তিন্নি’ পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দেখা করার কথা বলে এক যুবককে ডেকে নিয়ে অপহরণ ও মারধরের পর প্রায় সোয়া লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।

গ্রেপ্তাররা হলেন— নারায়ণগঞ্জের এম সার্কাস (শাহী মসজিদের ডান পাশে) এলাকার মৃত জালাল মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম সানি (৩৫) ও একই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে আওরালী (৪৬)। রফিকুল ইসলাম সানি নারায়ণগঞ্জের তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এসআরবি-১১ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সানজিদ হাসান রাফি (২৫) নামে এক যুবকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ‘তিন্নি’ পরিচয়ে এক নারী নিয়মিত যোগাযোগ করেন। পরে ওই নারী ও তার সহযোগীরা প্রলোভনের মাধ্যমে রাফিকে দেখা করার কথা বলে বন্দর থানার নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় ডেকে নেন।   

সেখানে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাকে একটি মিশুক গাড়িতে তুলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে রাজবাড়ি এলাকার একটি কবরস্থানের পেছনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও ১০-১২ জন সহযোগী যোগ দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।

জীবন রক্ষার জন্য রাফি বিভিন্ন বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কয়েক ধাপে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ১৫০ টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় চক্রটি। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনায় রাফির বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১ সিপিসি-১-এর একটি দল নারায়ণগঞ্জ সদর থানার হাজীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম সানি ও আওরালীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।